সুরিমিভিত্তিক উদ্ভাবনের বিস্তারিত তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার সিভাসু অডিটোরিয়ামে ‘ডেমোনেস্ট্রেশন ওয়ার্কশপ ও ফুড ফেয়ার’ শীর্ষক প্রদর্শনী -সমকাল
দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রচুর সাদা মাংসবিশিষ্ট ছোট মাছ পাওয়া যায়। জিউফিশ নামে পরিচিত এগুলো সাধারণত রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এতে অনেক মাছে পচন ধরে, পোকামাকড় আক্রমণ করে। ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার করেও শুকনো মাছের মান রক্ষা সম্ভব হয় না। জেলেরা ন্যায্যমূল্য পান না। এ সমস্যা সমাধানে বিকল্প সংরক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) একদল গবেষক। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প (SCMFP)’-এর সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশেও জিউফিশের মান সংরক্ষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সুরিমি উৎপাদন করা সম্ভব।
সুরিমি হলো প্রক্রিয়াজাত মাছের পেস্ট, যা বিশ্বে ফিশ বল, ইমিটেশন ক্র্যাব স্টিক ও সি-ফুড স্ন্যাকস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশে এটি জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন। রোদে শুকানোর পরিবর্তে সুরিমি পদ্ধতিতে মাছের প্রোটিনের মান ভালো থাকে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা যায়। পণ্যের আয়ুষ্কালও বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি অবমূল্যায়িত মাছের আর্থিক মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। মাছের পুষ্টিগুণও ঠিক থাকবে। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক মো. কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, বিশেষ করে চিংড়ি খাতে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বেশির ভাগ কারখানা শুধু হিমায়িত চিংড়ি বা কাঁচা মাছ প্রক্রিয়াজাত করছে। সুরিমি প্রক্রিয়াজাতকরণের সূচনা কারখানাগুলোর উৎপাদন লাইনে বৈচিত্র্য আনবে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি নতুন আয়ের উৎস তৈরি করবে। কারণ ছোট জিউফিশ খুব সহজেই ট্রলার বা স্থানীয় মাছ ধরার নৌকা থেকে সংগ্রহ করা যায় এবং এটি সারাবছর পাওয়া যায়। এ মাছের প্রোটিন ও মাংসের গঠন সুরিমি তৈরির জন্য আদর্শ।
তিনি বলেন, ‘ছোট জিউফিশের নিরবচ্ছিন্ন জোগান এবং বিদ্যমান বরফ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই সুরিমি ইকোসিস্টেম তৈরি করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি। এখন ছোট মাছের গুণগত মান ঠিক থাকবে। জেলেরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন। সিভাসুর গবেষকরা জানান, সুরিমি থেকে রেডি-টু-কুক এবং রেডি-টু-ইট পণ্য তৈরি করা যায়। যেমন– ফিশ বল, কেক, ডাম্পলিং, সসেজ ও স্ন্যাকস। আধা প্রক্রিয়াজাত সুরিমি বড় কারখানাগুলোতে সরবরাহ করলে ছোট উদ্যোক্তারাও সহজে স্থানীয় বাজারের জন্য নতুন পণ্য তৈরি করতে পারবেন। ছোট ও কম ব্যবহৃত প্রজাতির মাছ দিয়ে সুরিমি করায় হিলসা এবং রূপচাঁদার মতো অতিরিক্ত আহরিত মাছের ওপর চাপ কমবে।
সুরিমিভিত্তিক উদ্ভাবনের বিস্তারিত তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার সিভাসু অডিটোরিয়ামে ‘ডেমোনেস্ট্রেশন ওয়ার্কশপ ও ফুড ফেয়ার’ শীর্ষক প্রদর্শনী হয়। এতে সুরিমিভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ফিশ বল, ফিশ কেক, ফিশ রোল, ফিশ নাগেট, ফিশ বার্গার ও ফিশ কাবাব প্রদর্শন করা হয়। সিভাসু পরিচালক অধ্যাপক ইউসুফ এলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রদর্শনীতে ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ আহমাদ আল নাহিদ, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
