প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর২০২৫: ৫৩)
প্রতিদিনের মাছের চাহিদা মেটানোর জন্য দেশে নানা রকম উদ্যোগ চলছে। গত কয়েক দশকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের এসব উদ্যোগে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। তবে উৎপাদন বাড়লেও মাছের স্বাদ, বৈচিত্র্য, পরিবেশ নিয়ে রয়েছে নানা রকম পক্ষ-বিপক্ষের মত। বড় একটি বিষয় হলো চাষের মাছ বড় করতে যে খাবার ব্যবহার করা হয়, এসবে আপত্তি কারও কারও। বর্তমানে চাষের মাছের জন্য যে খাদ্য ব্যবহার হয়, সেসবে মাছের স্বাদ-পুষ্টি ও পরিবেশ নিয়ে সংশয়ে থাকেন অনেকে। সেই দিক থেকে মাছের জন্য খাবার হিসেবে প্রাকৃতিক শ্যাওলার ব্যবহার খুবই আশাব্যঞ্জক। এটি মাছের খাদ্যনির্ভরতায় পরিবেশের দিকে ফেরারও ইঙ্গিত। এমনটিই করছেন, যশোরের কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ীরা।
তারা মাছকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে প্রাকৃতিক খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এ ক্ষেত্রে ঘের ব্যবসায়ীরা জলাশয়ের প্রাকৃতিক শ্যাওলাকে মাছের খাবার হিসেবে দিচ্ছেন। মৎস্য অধিদফতরও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে ৪ হাজার ৬৫৮টি মাছের ঘের রয়েছে। বর্তমানে ঘের মালিকরা বিভিন্ন জলাশয় ও বিল থেকে পাটা শ্যাওলাসহ জলজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করে মাছের ঘেরে ব্যবহার করছেন। প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে শ্যাওলা ব্যবহার করায় ঘের মালিকদের বাণিজ্যিক খাদ্যের খরচও কম হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকেই ঘের লোকজন পাটা নামে এক প্রকার চিকন শ্যাওলা সংগ্রহ করছেন। ভোগতী নরেন্দ্রপুরের বিল থেকে শ্যাওলা সংগ্রহ করছিলেন হাবাসপোল এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ঘেরের মাছ মোটাতাজাসহ রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করতে শ্যাওলা খুবই উপকারী।
ভবানীপুর বিল থেকে শ্যাওলা সংগ্রহ করেন পৌরসভার নোনা মাটেল এলাকার মিজানুর রহমান ও আয়ুব আলী। তারা বলেন, ঘের মালিকরা মাছ চাষে বিলের শ্যাওলা ব্যবহার করায় তারা প্রতিদিন কাজ পাচ্ছেন।
উপজেলার মূলগ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঘেরে প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ করা গেলে মাছ সতেজ হয়ে ওঠে। শ্যাওলা ব্যবহারে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তা ছাড়া যেসব বিল থেকে শ্যাওলা তোলা হয় সেখানের দেশি প্রজাতিও সহজে চলাফেরা ও প্রজননে সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
জলাবদ্ধ বিল থেকে শ্যাওলা সংগ্রহ করে ঘের মালিকরা প্রতিদিন মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাটা শ্যাওলা মাছো শ্যাওলা নামেও পরিচিত। চিংড়ি মাছ ছাড়া সব ধরনের সাদা মাছের প্রিয় খাদ্য শ্যাওলা। এ পদ্ধতি মাছ চাষে একটি শুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, বিল থেকে শ্যাওলা তুলে ঘেরে মাছকে খেতে দেওয়ায় মাছের বৃদ্ধি ঘটে। এ পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। ঘেরে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করতে পারলে মালিকদের বাণিজ্যিক খাদ্যের খরচ কম হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহার করায় প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এটি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধিসহ মাছ উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। শ্যাওলা মাছের খুবই পুষ্টিকর খাদ্য।
সূত্র : সময়ের আলো
