10
চলতি বছর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চিংড়ি ও সাদা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এ বছর কেশবপুরে ৪ হাজার ৬৫৮ মৎস্যঘেরে মাছ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য ৫৭৫ কোটি টাকা। এই উৎপাদিত মাছ কেশবপুরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং আমিষের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক দশক ধরে যশোরের কেশবপুর উপজেলা মৎস্য উৎপাদানে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ৷ কেশবপুর মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেশবপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘের ও ৬ হাজার ১৪০টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এর মধ্যে সাধারণ ঘের রয়েছে ২ হাজার ৮৪২টি, যার আয়তন ৫ হাজার ৩১১ হেক্টর এবং বাণিজ্যিক ঘের রয়েছে ৫১৭টি, যার আয়তন ১ হাজার ২২৫ হেক্টর। এছাড়া পুকুর রয়েছে ৬ হাজার ৬৪০টি। যার আয়তন ৬৯৮ হেক্টর। অন্যদিকে গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ৬৬১টি, যার আয়তন ৫১৫ হেক্টর, বাগদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ৬৩৬টি, যার আয়তন ৩১৫ হেক্টর। এ বছর কেশবপুরে রই, কাতল ও পাবদাসহ সাদ্য মাছ উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৫ টন। এই উৎপাদিত মাছের মূল্য ৫২০ কোটি টাকা। এছাড়া চিংড়ি মাছ উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টন এবং বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ১৬৫ টন। যার মূল্য ২৫ কোটি টাকা। এ বছর কেশবপুরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার ৭৫ টন। সেখানে ৫০০ টন মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে কেশবপুরে মাছের চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার টন। বাকি মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া গলদা, বাগদা চিংড়ি ও পাবদা মাছ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানা গেছে। কেশবপুরের উৎপাদিত মাছ আমিষের চাহিদা পূরণসহ দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেশবপুরে ৪ হাজার ৬০২টি মৎস্য ঘেরে মাছ চাষ করা হয়। এতে সাদা ও চিংড়ি মাছ উৎপাদন হয়েছিল ১৯ হাজার ১২২ টন। মৎস্য চাষিদের দাবি এ খাতে সরকারের প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশিক্ষণের সহযোগিতা পেলে মাছ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। কেশবপুরের মৎস্যচাষি কাশেম মোড়ল ও লুৎফার রহমান বলেন, মাছ উৎপাদনে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে কেশবপুরে মাছ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেশবপুরে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘেরে চলতি বছর প্রায় ৩০ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, এলাকার মৎস্যচাষিদের বিভিন্ন সহযোগিতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে এ বছর চিংড়িসহ সাদা মাছ উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেশবপুরের মৎস্যখাত আরও প্রসারিত করতে আধুনিক হ্যাচারি, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার ও পরিবহন সুবিধা বাড়াতে হবে। তা হলে এ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে।
সারসংক্ষেপ : চলতি বছর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চিংড়ি ও সাদা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এ বছর কেশবপুরে ৪ হাজার ৬৫৮ মৎস্যঘেরে মাছ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য ৫৭৫ কোটি টাকা। এই উৎপাদিত মাছ কেশবপুরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং আমিষের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক দশক ধরে যশোরের কেশবপুর উপজেলা মৎস্য উৎপাদানে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ৷ কেশবপুর মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেশবপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘের ও ৬ হাজার ১৪০টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়।
সূএ : এনবি নিউজ ২৪.কম
