
নিরাপদ ও মানসম্মত মাংসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল সদরের কর্ণকাঠী গ্রামে ব্রয়লার খামারিদের নিয়ে কর্ণকাঠী, বরিশাল সদর, বরিশালে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ দিনব্যাপী “অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত ব্রয়লার উৎপাদন” বিষয়ক এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ নুরুল আলম, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার, এফডিআইএল, বরিশাল। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান ও গবেষণাগার, বরিশাল এর উদ্যোগে এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) আরটিসি’র অর্থায়নে পরিচালিত “এএমআর” শীর্ষক প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এলাকার নির্বাচিত ব্রয়লার খামারিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে লিমা আক্তার, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা এবং মো. নাঈম আকন, অডিও ভিজ্যুয়াল ইউনিট মেকানিক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ডা. মোঃ ইব্রাহীম খলিল, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার, এফডিআইএল, বরিশাল এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. এ,কে,এম, মোস্তফা আনোয়ার, পবিপ্রবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বলেন, “অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বর্তমান বিশ্বের জন্য এক বড় হুমকি। পোল্ট্রি শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে উন্নত জৈব-নিরাপত্তা এবং প্রোবায়োটিক ব্যবহার করে কীভাবে লাভজনকভাবে মুরগি পালন করা যায়, এই প্রশিক্ষণ খামারিদের সেই পথ দেখাবে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা চাই আমাদের খামারিরা কেবল উৎপাদনকারী নয়, বরং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত মুরগি উৎপাদন সম্ভব, যা একইসাথে খামারিদের খরচ কমাবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করবে।” বিশেষ অতিথি বলেন, “অ্যান্টিবায়োটিক কোনো বৃদ্ধির পরিপূরক (Growth Promoter) নয়, বরং এটি কেবল অসুস্থ পাখির চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ভুল ধারণা থেকে অনেকে এটি নিয়মিত ব্যবহার করেন, যা পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আমরা খামারিদের শেখাচ্ছি কীভাবে টিকা প্রদান (Vaccination) এবং উন্নত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মুরগিকে রোগমুক্ত রাখা যায়। খামারের চারপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজনই পড়ে না।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি বলেন, “বর্তমানে বাজারে মুরগির মাংসের গুণগত মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে। আমরা যদি খামার পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি, তবেই আমাদের পোল্ট্রি শিল্প রপ্তানি বাজারের জন্য প্রস্তুত হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘আধুনিক খামার’ গড়ে তোলা, যেখানে খামারিরা বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে নিরাপদ মাংস উৎপাদন করবে। এই প্রশিক্ষণ সেই লক্ষ্য পূরণের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।”
দিনব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে ডাঃ মোঃ ইব্রাহীম খলিল, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার, এফডিআইএল, বরিশাল খামারিদের হাতে-কলমে জৈব-নিরাপত্তা (Biosecurity), উন্নত মানের ফিড ব্যবস্থাপনা, পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন কৌশল, উন্নত শেড ব্যবস্থাপনা এবং মুরগির অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় আধুনিক ঘরোয়া ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য যে,আঞ্চলিক প্রাণীরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার, বরিশাল মডেল পোল্ট্রি ভিলেজ প্রকল্পের আওতায় খামারিদের এন্টিবায়োটিকমুক্ত ব্রয়লার উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করছে এবং উৎপাদিত মাংস MPV MEAT ব্র্যান্ডের আওতায় সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র ও জৈব-নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রচারে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস, বরিশাল।
