ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ :
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মশালা আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি হিসেবে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন তাঁদেরসহ দেশের সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল দপ্তর সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক যেসকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তার সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১৫টি বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এরমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ৫টি মৎস্য অধিদপ্তরের, ৫টি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এবং বাকি ৫টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ইশতেহার অনুযায়ী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, মো. আব্দুল জলিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ণ, শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রকল্প ব্যয়ের রিয়েল টাইম মূল্যায়ন ও স্পষ্ট হিসাব ইত্যাদি। কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.আলমগীর হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাস্তবায়ন করা সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম কাজগুলো হলো, নতুন ৩৫টি অভয়াশ্রম স্থাপন, ৪০ হাজার নতুন জেলেকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা, ১,৩৭৫ জনকে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনা ও ৮,০০৯ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা তেলাপিয়া মাছের রেনু উৎপন্ন করা ৭.৮৩ লক্ষ কেজি, দেশীয় জাতের পোনা উৎপন্ন করা যাবে ৮১৫.৮ কেজি ও কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপন্ন করা যাবে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৮৪ কেজি । পাশাপাশি দেশের ২৯ টি উপজেলায় অনলাইন ফিশ মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা এবং উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মূল্যের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মৎস অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ বজলুর রহমান। তিনি বলেন,অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যে সকল কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৩ কোটি ডোজ টিকা মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে ১০০ টি গরু, ১৮৬০০ টি ছাগল, ৪২৬ টি ভেড়া, ২৫০০ হাঁস মুরগি বিতরণ করা এবং গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে প্রতিমাসে ৫ লক্ষ ডোজ উন্নত জাতের সিমেন মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা । তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের ১৫০০ ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তাগণের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রতিমাসে প্রতি উপজেলায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩০০ সেবাগ্রহীতাকে সেবা প্রদানসহ প্রাথমিকভাবে ১৫০০ খামারির বীমা ব্যবস্থার পাইলটিং শুরু করা হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তৈরি করা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ১৫ টি পয়েন্টের ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারণ করা হয়। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
