বগুড়া, রবিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ (১৮ মে):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।
আজ বিকালে বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প আয়োজিত টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে গবাদিপশুর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতার অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের ওপর গবাদিপশু রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। ফলে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির প্রয়োজন নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উদ্বৃত্ত পশু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ উৎপাদন, প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বাজার সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে একদিকে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সহনীয় দামে কোরবানির পশু ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। উদ্বৃত্ত উৎপাদনের এ সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও টেকসই, লাভজনক এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে রূপান্তরে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজে সহায়তা প্রদান এবং সরকারি সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষি কার্ড, প্রণোদনা, ভর্তুকি ও উৎপাদনমুখী সহায়তার সুবিধা খামারিরাও পেতে পারবেন, যাতে তারা আরও উৎপাদনমুখী ও লাভজনক উদ্যোগ গ্রহণ করতে উৎসাহিত হন।
তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার, খামারি, উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একটি দেশ তখনই উন্নতির পথে এগিয়ে যায়, যখন সবাই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা কসাইখানা এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন।
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, খামারি, উদ্যোক্তা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধর
