প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

খামারের দরজার সামনে থামতেই প্রথম নির্দেশ-‘ভেতরে ঢোকার আগে হাত-পা ধুতে হবে, বদলাতে হবে জুতা।’ যেন কোনো হাসপাতালের জীবাণুমুক্ত কক্ষে প্রবেশের প্রস্তুতি। নেই উৎকট গন্ধ, অথচ এটি ব্রয়লার মুরগির খামার। বরিশালের কর্ণকাঠি গ্রামের এসব খামারে মুরগি বড় হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ছাড়াই। পরিচ্ছন্নতা আর কঠোর বায়োসিকিউরিটি মেনে গড়ে উঠছে নিরাপদ মাংস উৎপাদনের নতুন চর্চা।
শুরুতে মাত্র ১০ জন খামারিকে নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে। আশপাশের আরও খামারিরা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রচলিতভাবে ব্রয়লার খামারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু কর্ণকাঠির খামারে রোগ প্রতিরোধের মূল কৌশল পরিচ্ছন্নতা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বায়োসিকিউরিটি।
বাইরের লোকজনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত, প্রবেশের আগে হাত-পা পরিষ্কার করতে হয় এবং আলাদা জুতা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। খামারের শেডগুলোও নিয়মিত জীবাণুমুক্ত রাখা হয়।
এ উদ্যোগের আওতায় খামারিদের মুরগির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমানোর বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পোলট্রি পালনের জন্য নির্ধারিত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বায়োসিকিউরিটি নির্দেশিকা অনুসরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে রোগের প্রকোপ কমেছে, মুরগির মৃত্যুহারও কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বেড়েছে খামারিদের লাভ।
আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল বলেন, পোলট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। এ ঝুঁকি কমাতে কর্ণকাঠিতে মডেল পোলট্রি ভিলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে।
কর্ণকাঠি গ্রামের তরুণ খামারি শাওন সরদারের খামারে দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন ও খোলামেলা পরিবেশে মুরগিগুলো স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জন্য রয়েছে শেড। তার খামারে তিনটি শেডে প্রায় তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। সেখানে কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
শাওনসহ অনেক খামারির দাবি, এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত মুরগির মাংসের স্বাদ তুলনামূলক ভালো এবং চাহিদাও বাড়ছে। এখানকার অ্যান্টিবায়োটিকবিহীন মুরগি ও মাংস এখন চট্টগ্রামেও পাঠানো হচ্ছে।
আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, সঠিক বায়োসিকিউরিটি, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও নিরাপদ ও মানসম্মত ব্রয়লার উৎপাদন সম্ভব-কর্ণকাঠির খামারগুলো সেটিই দেখাচ্ছে।
