মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ একটি জি আই পণ্য, এটি আমাদের গর্ব আমাদের সম্পদ। এর সাথে ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি জড়িত। এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ। এর উৎপাদন যদি আরও বাড়ানো যায় তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মঙ্গলবার মৎস্য অধিদফতর কর্তৃক আয়োজিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করনীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রায় ৪০ লক্ষ্যের অধিক মানুষ এর সাথে জড়িত। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সাথে রিলেটেড। এজন্য এ ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে, জাল কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে। কারেন্ট জালের ব্যাপারে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। এজন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য চিন্তা করতে হবে এবং গবেষণার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ এর মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতার পরিধি এবং পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে; যাতে করে নিষেধাজ্ঞাকালিন মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখা যায়। মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে মৎস্যজীবী ভাই-বোনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। এজন্য এদের ট্রেনিং দেওয়া প্রয়োজন। এসময়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানোর ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের প্রায় ১১ টি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। সেগুলো যাতে এক্টিভভাবে কাজ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষির উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায় এবং মৎস্য সম্পদ কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ রক্ষায় ২০০৩ সালে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে। বিশেষ করে ইতিমধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এবং কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ড পাবেন। বাংলাদেশের সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। আগামী বছরের জুলাইয়ের পর থেকে ম্যাক্সিমাম উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে চাহিদাও বাড়ছে; এর সাথে উৎপাদনও বাড়াতে হবে। এই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেক জায়গায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারি তাহলে আমরা এ দেশকে সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, মৎস্য ও প্রণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) নীলুফা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (মৎস্য অনুবিভাগ) সৈয়দা নওয়ারা জাহান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ পরিচালক ( ইলিশ ব্যবস্থাপনা) আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর ও অন্যান্য দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
