১৬.০১.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কাজীপাড়ার বাসিন্দা ওয়ালি আহমেদ, ২৫ বছর আগে গাভি পালন শুরু করেন আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার উদ্দেশ্যে। কুয়েত থেকে দেশে ফিরে তিনি খামারি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই সময় একটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি নিয়ে খামার শুরু করেন। তার খামারে বর্তমানে ১টি গাভি, ২টি ষাঁড় এবং ১টি বাছুর রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি দুধ উৎপাদন হয় এবং দুধ বিক্রির মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।
ওয়ালি আহমেদের খামার শুরু হয়েছিল ছোট আকারে, কিন্তু তার খামারের আয় এবং খামারের উন্নতি এখন অনেক এগিয়েছে। তার খামারের জন্য খাদ্য সরবরাহে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার নিজস্ব ৪০ শতাংশ জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন, যা গবাদি পশুর খাদ্যের প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া, তিনি বাজার থেকে ভুসি, খৈল, ভুট্টা, খুদি এবং চাউলের কুড়া ক্রয় করে গরুর খাবার হিসেবে প্রদান করেন।
ওয়ালি আহমেদ গবাদি পশু পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হয়েছেন, যেমন ক্ষুরা রোগ, লাম্পি স্কিন রোগ এবং বদহজমের সমস্যা। খামারের যত্ন ও ব্যবস্থাপনায় তার পরিবারই সহায়তা করে থাকে। তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী, ১ ছেলে এবং ১ মেয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। তবে, তার খামারের ব্যয়ও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে তার মাসিক খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা, যা খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং খামারের অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয়। খামারের এই খরচ বৃদ্ধির কারণে তার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ওয়ালি আহমেদের মত উদ্যোক্তারা বিশেষভাবে প্রান্তিক অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর মাধ্যমে অন্যান্য স্থানীয় মানুষদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। তরুণরা যদি খামারি হতে আগ্রহী হন, তবে ওয়ালি আহমেদ তাদের উৎসাহিত করেন। তার মতে, ‘‘ছোট আকারে শুরু করলেই সফলতা আসবে, শুধু ধৈর্য এবং সঠিক যত্ন প্রয়োজন।’’
এছাড়া, সরকারি সহায়তা পেলে এমন উদ্যোক্তাদের আরও উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে, তবে তারা আরও বড় পরিসরে খামার চালাতে সক্ষম হবেন। ওয়ালি আহমেদের খামারের উন্নতির জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তবে, তার খামারের জন্য একটি বড় সমস্যা হলো গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া। বর্তমানে খাদ্য সরবরাহে ব্যয় বেশ বেড়ে গেছে, কিন্তু দুধের মূল্য একই থাকায় খামার পরিচালনায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, যদি গবাদি পশুর খাদ্যের দাম কমানো যায় তবে খামারিরা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারবেন।
ওয়ালি আহমেদ আশা করেন, তার মতো আরও অনেক উদ্যোক্তা সফল হবেন এবং প্রান্তিক অঞ্চলের খামারি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। ‘‘কোনো কিছু শুরু করার জন্য বড় পুঁজি প্রয়োজন নয়, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং ধৈর্যই যথেষ্ট,’’ বলেন তিনি। সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের মোবাইল অ্যাপস “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য ভাণ্ডার” ও নিউজ পোর্টাল ” মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংবাদ” সম্পর্কেও অবগত করা হয়।
প্রতিবেদনকারী।
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা
