কুমিল্লা জেলার লালামাই উপজেলার আশকামতা গ্রামের ভোর শুরু হয় পাখির ডাক আর হালকা কুয়াশার চাদরে। সেই ভোরের সঙ্গেই জেগে ওঠেন মো. মনির। গ্রামের মানুষ তাকে এক নামে চেনে-সফল খামারি ও অভিজ্ঞ প্রাণিচিকিৎসক হিসাবে। ২০০৮ সালে ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করা তার খামার আজ গ্রামের গর্ব।
মনিরের খামার করার অনুপ্রেরণা এসেছে তার বাবার কাছ থেকে। ছোটবেলায় তিনি দেখতেন, তার বাবা কত যত্নে গরুগুলোকে লালন-পালন করতেন। বাবার সেই নিষ্ঠা আর ভালোবাসা মনিরের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তিনি বুঝেছিলেন, গরু পালন শুধু পেশা নয়, এটি এক ধরনের দায়িত্ব ও মমতার সম্পর্ক।
বর্তমানে তার খামারে সাতটি হলেস্ট্রাইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু রয়েছে। সাদা-কালো দাগের এই গরুগুলো যেন তার পরিবারেরই সদস্য। খামারের দেখাশোনা করেন মনির ও তার স্ত্রী দু’জনে মিলে। প্রতিদিন সকালেই তারা গরুগুলোর শরীর মুছে দেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন গোয়ালঘর। খাবারের ব্যাপারে মনির অত্যন্ত যত্নশীল। তিনি প্রচুর পরিমাণে জার্মান জাতের সবুজ ঘাস খাওয়ান। পাশাপাশি খৈল, কুঁড়া, ভূষি ও খড় মিশিয়ে সুষম খাদ্য তৈরি করেন। তিনি জানেন, ভালো খাবারই সুস্থ গরু আর বেশি দুধের চাবিকাঠি।
মো.মনির যেহেতু একজন প্রাণি চিকিৎক তাই গরু অসুস্থ হলে চিকিৎসা তিনি নিজেই করেন।
প্রতিদিন ভোরে দুধ দোয়ানোর সময় মনিরের মুখে হাসি লেগে থাকে। তার খামার থেকে প্রাপ্ত তাজা দুধ বাগমারা বাজারে বিক্রি হয়। বাজারের মানুষ জানে, মনিরের খামারের দুধ খাঁটি ও পুষ্টিকর। তাই চাহিদাও বেশ ভালো।
গ্রামের মানুষ প্রায়ই তাদের গরু-ছাগল নিয়ে মনিরের কাছে আসে। তিনি সাধ্যমতো সবার চিকিৎসা করেন। তার কাছে খামার শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব আর পরিশ্রমের এক সুন্দর গল্প।
২০০৮ সালে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আশকামতা গ্রামের এই সফল খামারী প্রমাণ করেছেন-সঠিক জ্ঞান, আন্তরিকতা আর পরিশ্রম থাকলে গ্রামেই গড়ে তোলা যায় সাফল্যের দৃষ্টান্ত।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় এবং তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ বিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
