তারিখ: ১৮.০৫.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরন্যপুর গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফা যখন ২০০৫ সালে পারিবারিক পরিসরে মাত্র চারটি গরু নিয়ে খামার পরিচালনার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেনি একদিন সেই খামার রূপ নেবে একটি পূর্ণাঙ্গ গবাদি পশু খামারে। আজ তার মোস্তফা এগ্রো ফার্ম-এ রয়েছে ২৬টি গরু, যার মধ্যে নেপালি, শাহীওয়াল, শংকর ও দেশি জাতের গবাদি পশু রয়েছে।
নিজে পরিশ্রম করে গড়ে তোলা এই খামারে মোস্তফা এখন একজন সার্বক্ষণিক কর্মচারীও রেখেছেন, যাকে মাসিক ১৮ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। খামারটি কেবল তার পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই মজবুত করেনি, পাশাপাশি একটি কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। ছয় সদস্যের পরিবারে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সবারই এই খামার নিয়ে গর্বের শেষ নেই।
গরুগুলোর সুষম খাদ্যের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভুট্টা, চাউলের খুদ, ভুষি, সয়াবিন ও খড়ের পাশাপাশি নিজ জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাসও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা হয়। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে এসিআই কোম্পানির ফিডও ক্রয় করে থাকেন।
তবে এই দীর্ঘ পথচলায় কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। গরুগুলোর মাঝে একাধিকবার ক্ষুরা রোগ ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যথাসময়ে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি গবাদি পশুগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন। যদিও প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনো প্রশিক্ষণ নেননি বা সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, তবুও তিনি নিজ প্রচেষ্টায় খামারটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোস্তফা বলেন, “ইচ্ছে আছে, খামারটা আরও বড় করবো। ঈদের সময় গরুগুলোর ভালো দাম পাই, বিশেষ করে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করি”
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তিনি প্রতিবছর তার খামারের গরু বিক্রি করে থাকেন। এতে যেমন পরিবারে বাড়তি আয় হয়, তেমনি স্থানীয় হাটেও তার খামারের গরুগুলোর সুনাম রয়েছে।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা থেকে খামারটি পরিদর্শন করা হয় এবং খামারিকে তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দিয়ে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেয়া হয়। সেইসাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যাতে তিনি খামার পরিচালনার জন্য প্রাথমিক জ্ঞান ও পরামর্শ পেতে পারেন।
খামার গড়ে তোলার এই গল্প শুধুই অর্থনৈতিক সাফল্যের নয়, বরং এটি একজন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতার প্রতিচ্ছবি। মোহাম্মদ মোস্তফার মতো খামারিরা আজ দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন।
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
