সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে মাছের খাদ্য হিসেবে ক্ষতিকর মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন বরিশালের অধিকাংশ মৎস্য চাষীরা। এ বিষ্ঠা ব্যবহার মানবদেহে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছে, মুরগির বিষ্ঠা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না করলে এতে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য জীবাণু মাছ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দিঘি, পুকুর কিংবা মাছের ঘেরের উপরে মুরগির খামার তৈরি করে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন চাষীরা। মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি মুরগির বিষ্ঠা খামারিদের কাছ থেকে কম দামে ক্রয় করে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মৎস্য খামারিরা জানিয়েছেন, একসময় সরকার থেকেই মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হতো। যে কারণে পূর্ব থেকেই তারা এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আসছেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি আগে থেকেই মুরগির বিষ্ঠার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে খামারিদের সাঙ্গে আলোচনা করতেন, তবে তারা মাছের খাদ্য হিসেবে বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করে দিতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে তাদের কখন কোনো ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়নি দাবি করেছেন মৎস্য চাষীরা। তারা বলেন, মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক চাষি বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন।
গৌরনদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ দেবনাথ জানিয়েছেন, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করা মাছ খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি পুকুরের পরিবেশও নষ্ট হয়। এজন্য মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার জানিয়েছেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। এটির ব্যবহার বন্ধে প্রাথমিকভাবে খামারিদের সতর্ক করা হবে, তাতে না ফিরলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, মুরগির খাবারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগির মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে তা ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য মুরগির খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে আনাসহ এ বিষয়ে নজরদারির প্রয়োজন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খামারিদের নিয়ে আলোচনা করে বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
