জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাটানোর পর দেশে ফিরে চ্যাপা শুঁটকি তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ছাবির উদ্দিন (৭০)। অল্প পুঁজিতে শুরু করা তার এ উদ্যোগ এখন প্রায় দুই কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে কয়েকজন তরুণের কর্মসংস্থান। সরেজমিনে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিজের বসতবাড়ির একাংশজুড়ে গড়ে তুলেছেন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে অসংখ্য মাটির মটকা, যার ভেতর সংরক্ষিত হচ্ছে চ্যাপা শুঁটকি। শ্রমিকরা মটকায় শুঁটকি ভরার কাজ করছেন, আর পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন ছাবির উদ্দিন নিজেই।
ছাবির উদ্দিন জানান, প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন এই ব্যবসা। চট্টগ্রাম থেকে শুঁটকি এনে তা বাছাই, ধোয়া ও প্রক্রিয়াজাত করে মাটির মটকায় সংরক্ষণ করা হয়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় ৬ মাস থেকে এক বছর সংরক্ষণের পর তৈরি হয় চ্যাপা শুঁটকি। বর্তমানে তার কারখানায় প্রায় ১,৫০০ মটকায় শুঁটকি সংরক্ষিত রয়েছে। সারা বছর সিলেটের মাছিমপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকি বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে প্রতিটি মটকার দাম ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে এসব পণ্য। কারখানার শ্রমিক সাহেদ আহমদ বলেন, শুঁটকি বাছাই, ধোয়া এবং মটকায় ভরার কাজ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি। প্রতিদিন কয়েকটি মটকা প্রস্তুত করা যায়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ও লামাকাজি ইউনিয়নে শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার শুঁটকি পণ্য বিক্রি হয় এখানে। তিনি আরও জানান, এ খাতের উন্নয়নে মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করছে। চলতি বছরও ২০ জন উদ্যোক্তাকে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ছাবির উদ্দিন এখন স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার সফলতা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণা।
