গ্রামীণ মেঠোপথ আর জলাশয় জুড়ে অবাধে বিচরণ করছে হাজার হাজার হাঁস। দিনাজপুরের হাকিমপুরের রিকাবি চকচকা গ্রামে ইউটিউব দেখে হাঁস পালনের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের বেকারত্ব দূর করেছেন মাহফুজুর রহমান। চাকরির পেছনে না ছুটে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ও পরিশ্রমে তিনি প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে তুলেছেন এক লাভজনক হাঁসের খামার।
মাহফুজুর এখন এলাকার একজন সফল ও স্বাবলম্বী খামারি। দুই হাজার বাইশ সালে মাত্র একশত হাঁস নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে অনেকেই এই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে নানা রকম সন্দেহ প্রকাশ করলেও সঠিক পরিচর্যার কারণে তিনি আজ সফল খামারি। হাঁসের বিভিন্ন উন্নত জাত ও রোগবালাই সম্পর্কে অনলাইনের মাধ্যমে সঠিক ধারণা নিয়ে ধাপে ধাপে তিনি খামারের পরিধি বাড়িয়েছেন।
প্রথমে একশত থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বর্তমানে খামারে হাঁসের সংখ্যা দশ হাজারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিদিন সকালবেলা উঠে তিনি খামারের হাঁসগুলোর যত্ন নেন। উন্মুক্ত জলাশয় থেকে হাঁসগুলো প্রাকৃতিকভাবে শামুক, ঝিনুক, শ্যাওলা ও ছোট মাছ খেয়ে খাদ্য চাহিদা মেটানোয় কৃত্রিম ফিডের খরচ প্রায় সত্তর শতাংশ কমে গেছে। এতে হাঁসগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারের উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে এসেছে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে খামারে নিয়মিত প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও উন্নত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
অল্প পুঁজিতে এমন লাভজনক খামার দেখে স্থানীয় অন্য সাধারণ মানুষেরাও এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং এই বিশাল উদ্যোগ থেকে মাহফুজুরের বছরে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা নিট লাভ হচ্ছে।
