আল আমিন(কুমিল্লা)
আসছে ১৭ জুন সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট-বাজার এসব হাট-বাজারে দেখা মিলবে দেশি জাতের বিভিন্ন গরু। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পশুকে দ্রুত মোটাতাজা করে অধিক লাভের আশায় পশুকে বিভিন্ন স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ, ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে থাকেন এর ফলে গরুর দ্রুত অতিরিক্ত ওজন হয়ে নাড়াচাড়া ও চলাফেরা বন্ধ করে দেয়। স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ দেয়ার ফলে গরুর মুখ দিয়ে সব সময় লালা ঝরতে থাকে এবং গরু কিছু খেতে চায় না এক পর্যায়ে গরুর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অরগানগুলো নষ্ট হয়ে যায় এতে দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস শুরু করে এবং প্রচন্ডভাবে হাপাতে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে রাসানিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস খেলে মানবদেহের জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর বিশেষ করে এই মাংস রান্নার পরও রাসয়নিক উপাদান ধ্বংস হয় না এই মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে পানি জমে যায়, মূত্রনালী ও যকৃতের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয় এক পর্যায়ে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
সাধারণ মানুষ যাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এজন্য কোরবানির হাট বাজারে গরুর নিন্মোক্ত লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন গরুটি সুস্থ সবল কিনা।
সুস্থ সবল পশু চেনার উপায় নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
- নাকের উপরের কালো অংশ ভেজা ভেজা এবং চকচকে হবে।
- পিঠের কুজ মোটা ও টানটান থাকবে।
- মুখের সামনে খাবার ধরলে নিচ থেকে জিহ্বা দিয়ে টেনে খাবে।
- সব সময় কান ও লেজ নাড়াচাড়া করবে ।
- স্বাভাবিক চাঞ্চল্য থাকবে এবং জাবর কাটবে।
- শরীরের চামড়া টান টান পশম মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে।
- চামড়া টান দিয়ে ছেড়ে দিলে দ্রুত পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
- পাঁজরের হাড় উঁচ-নিচু থাকাবে।
- পশুর চোখ উজ্জল ও তুলনামূলক বড় আকৃতির হবে।
- দেখতে প্রাণবন্ত ও চকচকে দেখাবে।
তাই আসুন আমারা সকলে মিলে অসাধু ব্যবসায়ী দ্ধারা ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রতারিত না হয়ে দেখে শুনে সুস্থ সবল গরু ক্রয় করি।
লেখক: মো. আল আমিন
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
