পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রাম। এ গ্রামটিকে সবাই হাঁসের গ্রাম হিসাবেই চেনেন। গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন শুধু হাঁস পালন করে। প্রতি মাসে শুধু হাঁসের ডিম বিক্রি করে এখানকার মানুষ আয় করেন কয়েক লাখ টাকা। পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৮ কিমির উত্তরে দুর্গাপুর গ্রাম।
পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের টেক্সটাইল নামক বাসস্ট্যান্ডে নেমে কিছু দূর হেঁটে গেলেই চোখে পড়বে সেই সারি সারি হাঁসের লাইন। এ গ্রামেরই বাসিন্দা জোবায়ের হোসেন মৃধা। তিনি মাত্র ১৪টি হাঁস দিয়ে শুরু করেছিলেন একটি ছোট হাঁসের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় এক হাজার হাঁস।
এই গ্রামে শুধু জোবায়ের মৃধা নন, তার মতো এ গ্রামেই আরও আছেন আবুজর মৃধা, শফিক ও আরিফসহ শত শত নারী-পুরুষ। শুধু হাঁসের ডিম ও হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে সফলতাও পেয়েছেন তারা। এলাকায় খাল-বিল ও নদীনালা বেশি থাকায় এ জেলা হাঁস পালনের জন্য বেশ উপযোগী। বিশেষ করে ধানের জমি ও খাল-বিলে ঘুরে ঘুরে হাঁসরা প্রকৃতি থেকে খাবার সংগ্রহ করে, তাই খামারিকে বাড়তি হাঁসের খাবারও দিতে হয় না। ফলে লাভের পরিমাণ ভালো।
খামারি জোবায়ের হোসেন মৃধা বলেন, শুরুতে ১৪টি হাঁস দিয়ে একটি ছোট্ট খামার শুরু করেছিলাম। এখন আমার খামারে হাঁস কয়েক হাজার। শুধু হাঁস পালন করি না, ডিম এবং হাঁসের বাচ্চা দুটোই বিক্রি করি। এ থেকে প্রতি মাসে আয় হয় কয়েক লাখ টাকা।
দুর্গাপুরের আরেক খামারি আবুজর মৃধা বলেন, এখানে ছোট-বড় দুই শতাধিক খামার রয়েছে। আমাদের গ্রামে হাঁস পালন করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কারণ হাঁসকে অতিরিক্ত কোনো খাবার দিতে হয় না। হাঁস মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়িয়ে প্রাকৃতিক খাবার খায়, এ জন্য অতিরিক্ত দামে খাবার কিনতে হয় না। ফলে লাভের পরিমাণটা বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, এ এলাকার অনেক মানুষ হাঁস পালনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটিকে উৎসাহ দিচ্ছে জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আর রোগপ্রতিরোধেও খামারিদের পাশে থেকে সবসময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরেছে অনেক পরিবারের। প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় খামারিদের কাছে প্রায় ১২ লাখ হাঁস রয়েছে। আর ছোট-বড় প্রায় তিন হাজার হাঁসের খামারি রয়েছে।
