বাগেরহাটের ফকিরহাটে কলকলিয়ার বানিয়াখালী কালীগঙ্গা নদীতে দেশি মাছ ও শামুক সংরক্ষণে গড়ে তোলা হয়েছে অভয়াশ্রম। এতে দেশি মাছের ঘাটতি কমবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশি মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কলকলিয়ার বানিয়াখালী কালীগঙ্গা নদীতে এক হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই অভয়াশ্রম। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশি প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে, খাল-বিল, নদী-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবৈধভাবে জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে দেশি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
এ কারণে দেশি মাছ সংরক্ষণে এই অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়েছে। এখানে নিরাপদে মাছের বংশবিস্তার হবে। এটি দেখভাল করতে স্থানীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির লোকজন এটি দেখভাল করে থাকেন।
সুধাংশু বাকচী ও খোকন বিশ্বাসসহ স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য চাষী বলেন, কালীগঙ্গা নদীতে মাছের অভয়াশ্রম করায় অনেক উপকার হয়েছে। এতে দেশি মাছের উৎপাদন বাড়বে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিরাপদে বংশ বিস্তার করতে পারবে।
স্থানীয় শিক্ষক দেবাশীষ রায় বলেন, দেশি প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে।
মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এখানে অভয়াশ্রম করায় মাছের বংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে আরো গভীর পানিতে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হলে বেশি ভালো হবে।
ফকিরহাট জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, মৎস্য অভয়াশ্রম হলো মাছের নিরাপদ আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র, যেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এটি মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ফকিরহাট উপজেলার বানিয়াখালীর কালীগঙ্গা নদীতে এক হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই অভয়াশ্রম।
তিনি বলেন, মাছের পাশাপাশি শামুক ও ঝিনুকেরও অনেক উপযোগিতা রয়েছে। তাই দেশি মাছ ও শামুকের বিস্তার এবং এর সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
সূত্র:কালের কন্ঠ
