
কুকুর দুটির মালিক মোহাম্মদ ইউনুস জানান, এগুলো ভারতীয় কুকুরের একটি প্রজাতি, নাম ‘মুধল হাউন্ড’। মুধল হাউন্ড কুকুরকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এখনো ডগ স্কোয়াডে ব্যবহার করে।
মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘এগুলো (প্রাণি পালন) নিয়ে থাকলে মানুষ বাজে নেশায় আসক্ত হয় না। মানুষের মধ্যে মানবিক গুণ তৈরি হয়। মানুষের ভিতরে মায়া তৈরি হয়, ভালোবাসা তৈরি হয়।’
খাঁচার ভেতর শান্ত হয়ে বসে আছে বেশ কয়েকটি ছোট পাখি। সোনালি ও সবুজ রংয়ের পাখিগুলোর মাথার অংশ টুকটুকে লাল। পাখির মালিক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, এগুলো ফিঞ্চ পাখি। মিরপুরের বিএডিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক খাঁচায় থাকা দুই রকমের ফিঞ্চের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন- গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ ও প্যারট ফিঞ্চ। প্যারট ফিঞ্চের মধ্যে রেড ফেসড বা লাল-মুখো ফিঞ্চের রং লাল-সবুজ।
মিরপুরের সুরভি স্কুল থেকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছেন শিক্ষক মোবাশ্বিরা পাপিয়া। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে এখানে এসে। অনেক পাখি দেখলাম, যেগুলো আগে দেখা হয়নি। বাচ্চারাও অনেক খুশি।’ একই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. যুবরাজ বলল, ‘আমার খুব আনন্দ লাগতেছে। পাখি আর ঘোড়া দেখে বেশি মজা লাগছে।’
স্পেনের কবুতরের একটি প্রজাতি স্প্যানিশ পটার গরগরিও। অনেকটাই বড়, ফোলা ও ঝুলে থাকা বাদামি রংয়ের গলার কারণে প্রথম দর্শনেই নজর কাড়ে কবুতরটি। তুরস্কের কবুতর সার্টিন। এরও রয়েছে রকমফের—ব্ল্যাকলেইস সার্টিন, ঝর্না সার্টিন ও ব্লু সার্টিন। শান্তির প্রতীক এই কবুতর নিয়ে এসেছেন দুই বন্ধু ফালাক সামি খান ও মো. ইজাজ সাদিক।
বেশ কিছু বিদেশি ও অদ্ভুত প্রাণি নিয়ে মিরপুর থেকে সপরিবারে এসেছেন এন এম জামিনুল ইসলাম নিপু। এর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান শজারু, সুগার গ্লাইডার ও ইঁদুরের মতো হ্যামস্টার। তিনি জানান, মূলত নতুন ধরনে প্রাণির প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি এসব প্রাণি সংগ্রহ করেন।
ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কুকুর ভালোবাসতেন। ছোট আকারের ‘কর্গি’ প্রজাতির কুকুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, তাদের রয়েল কর্গি বা রাজকীয় কর্গি নামে ডাকা হতো। বাংলাদেশে বেশ দুর্লভ এই কর্গি নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থী মো. মুহিত ইসলাম। শখের বশে তিনি উটপাখিও পালন করেন বলে জানান কালের কণ্ঠকে।
মূলত সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলে এই প্রাণি প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলোচনা সভা।
