কুমিল্লা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নিজস্ব জীবিকা নির্বাহের জন্য গ্রামের যুবকরা ধীরে ধীরে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে অন্যতম উদাহরণ আবদুল হাসান, যিনি ২০২০ সালে শুরু করেছিলেন হাস-মুরগি খামার। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি খামার পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে তার খামার স্থানীয় বাজারে পরিচিতি পেয়েছে।
খামারে বর্তমানে রয়েছে কালার বার্ড ৫,৫০০টি এবং সোনালী ১০,০০০টি মুরগি। ব্রিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ২০ দিনে এবং শেডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। খাবারের জন্য ব্যবহার করা হয় রেডি ফিড, যা পুষ্টি নিশ্চিত করে। এছাড়া ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিয়মিতভাবে ৫, ১০ এবং ২১ দিনে, যাতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ৪৫ দিনের মধ্যে মুরগি বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয় এবং এটি মূলত নিকটস্থ এলাকার বাজারে বিক্রি করা হয়।
খামারে শ্রমিক হিসেবে নিজেই দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হাসান। মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দিলে তিনি নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার মতে, পরিকল্পিত পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করলে ভালো লাভ সম্ভব এবং যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
আবদুল হাসান জানিয়েছেন, তিনি মূলত বেকারত্ব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে এই খামার শুরু করেছেন। তিনি যুবকদেরও উৎসাহ দেন, “বসে থাকবেন না, হাস-মুরগি পালন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।” এছাড়া, তিনি ভবিষ্যতে গোবাদি পশু পালনও করার পরিকল্পনা করেছেন, যা খামারের আয়ের নতুন উৎস হিসেবে কাজ করবে।
খামারের সবশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, বছরে ভালো তিলি বিক্রির মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য অর্থ আয় করেন। এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যা খামার পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই ধরনের উদাহরণ যুবকদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব সৃষ্টি করেছে। বেকারত্ব দূরীকরণ, আয়ের নিশ্চয়তা এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে আবদুল হাসানের খামার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদক :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
