নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় শখ থেকে শুরু করে বড় পরিসরের গরুর খামার করে সফল হয়েছেন আরাফাত হোসেন। তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।
বিরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে তার খামার। টিনশেডের বড় শেডে দেশি-বিদেশি জাতের গরু পালন করা হচ্ছে। বড় গরুর পাশাপাশি ছোট বকনাও আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে। খামারের দেখভালের জন্য কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন। খামারের দক্ষিণ পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতে বকনা গরু মোটাতাজা করা হবে। প্রথমদিকে নানা রোগবালাই ও সমস্যার মুখে পড়লেও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ ও কঠোর পরিশ্রমে এখন সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে খামারটি। বর্তমানে এটি উপজেলার অন্যতম সুসংগঠিত খামার হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রায় ৩১ লাখ টাকার ২১টি গরু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে আরও ১০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। খামারি আরাফাত জানান, ছোটবেলা থেকেই গরু পালনের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ১৯৯৬ সালে মাত্র ১০টি গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাভ ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে এখন তার খামারে প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। বছরে খরচ বাদে আয় হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
খামারের ম্যানেজার জানান, খামারে ফ্রিজিয়ান, ফ্লেগবি ও নেপালি জাতের গরু রয়েছে। এগুলো ১৪ থেকে ১৮ মাস বয়সী ষাঁড় এবং কিছু দেশি বকনা ও দুধের গাভীও আছে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ছোট পরিসর থেকে শুরু করে আরাফাত এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে আরাফাত হোসেনের এই গরুর খামার এখন ধামইরহাটে সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
