কুমিল্লা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শনিবার) :
চট্টগ্রাম বিভাগের মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) কুমিল্লার মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক জনাব আনোয়ার হোসেন।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জনাব বেলাল হোসেন – তিনি মাঠ পর্যায়ে মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় মৎস্য সেক্টরকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এরপর বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিশ্বজিৎ বৈরাগী। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অপার মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে হাওড়, ইলিশ, কাপ্তাই লেক, পার্বত্য অঞ্চলের ক্রিক, কক্সবাজারের বাগদা চিংড়ি, হালদা নদী, উপকূলীয় অঞ্চল, ফিশ প্রসেসিং এবং সামগ্রিক মৎস্য সম্পদ নিয়ে তিনি বিশদ আলোচনা করেন।
পরে মুক্ত আলোচনায় জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা নদী দূষণ, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, খাঁচায় মাছ চাষ, নোয়াখালী ও ফেনি সার্ভেলাইন্স চেকপোস্ট, গলদা হ্যাচারির কার্যক্রম, পাহাড়ি অঞ্চলের কাঁকড়া, কুচিয়া, ঝিনুক প্রদর্শনী, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, রেনু পোনা উৎপাদন ও ক্রিকের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ তার মূল্যবান বক্তব্যে বলেন, “মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের বৈশিষ্ট্য আলাদা—বিশেষত কাপ্তাই লেক ও হালদা নদী।” তিনি আসন্ন প্রকল্পের দিকনির্দেশনা দেন এবং ক্ষুদ্র ঋণে নীতিমালা, পোনা অবমুক্তি, মৎস্য অভয়াশ্রম, ফিশারিজ কাউন্সিল গঠন, মৎস্য পদক নীতিমালা আপডেটসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। এছাড়া তিনি সীড, ফিড ও বিদ্যুতের মূল্য, জেলে আইডি কার্ড এবং মহিলা জেলে কার্ড প্রবর্তনের বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেন।
অতিথিরা চট্টগ্রাম বিভাগের মৎস্য খাতের উন্নয়নে কথা আলোচনা করেন।
