দর্শনদারি না হলেও পুষ্টিগুণে অনন্য সামুদ্রিক মাছ লইট্টা। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনপ্রিয় এই মাছের সমাদর দেশজুড়ে। লইট্টার গুণাগুণ নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইমরান
লইট্টা মাছ দুইভাবে খাওয়া যায়। একটি হলো তাজা মাছ, অন্যটি রোদে শুকিয়ে শুঁটকি মাছ হিসেবে। স্বাদের দিক থেকে যেমন, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক দিয়েও অনন্য এই মাছ। সাধারণত ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয় মাছটি।
বঙ্গোপসাগর, আরব সাগরসহ এশিয়ার বিভিন্ন উপকূলে লইট্টা মাছ ধরা পড়ে।
চট্টগ্রামের জনপ্রিয় লইট্টা মাছ এখানকার খাবারের এক প্রধান অনুষঙ্গ। বাংলাদেশের মতোই ভারতের মুম্বাই ও যুক্তরাজ্যে লইট্টা মাছ সমান জনপ্রিয়। চট্টগ্রামের মানুষ হলেই লইট্টা মাছের প্রতি আলাদা টান থাকবে।
এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও খাদ্যের ইতিহাসের সঙ্গে মাছটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। লইট্টা মাছের শুঁটকি চাটগাঁয় ফুনি বলা হয়।
তাজা মাছের পাশাপাশি লইট্টা শুঁটকিও সারা বছরই খাওয়া হয়। ভুনা বা রসা রান্না কিংবা ঝুরি ভাজি—সব রকমেই লইট্টা অতুলনীয়।
আবার দামটা সস্তার পাঙ্গাশ মাছের চেয়েও কম। কক্সবাজারের রেস্তোরাঁগুলোর অন্যতম জনপ্রিয় মেন্যু লইট্টা ফ্রাই। ডিম, মসলা, ময়দার বেসন মাখিয়ে ডুবোতেলে ভেজে তৈরি হয় এই ফ্রাই। খেতে লা জবাব।
লইট্টা মাছের উপকারিতা
* লইট্টা শুঁটকিতে থাকা ক্যালসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
* লইট্টা মাছ প্রোটিনে ভরপুর। শুঁটকি আকারে খাওয়া হলে এই প্রোটিনের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পায়। প্রোটিন আমাদের শরীরের টিস্যু গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এই মাছে থাকা প্রোটিন শরীরের হরমোন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখে।
* লইট্টা শুঁটকিতে রয়েছে প্রচুর আয়রন। যাঁরা রক্তাল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর।
* লইট্টা মাছ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী।
* এই মাছে রয়েছে অতি উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, যা শরীরের রক্তনালিকে পরিষ্কার রাখে। হার্টের সুস্বাস্থ্যের জন্য লইট্টা মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের কাজ বহুমাত্রিক। যেমন—অতিরিক্ত রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিহত করা, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের লেভেল কমানো, রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো ইত্যাদি। ত্বককে শুষ্কতা এবং প্রদাহ থেকে সুরক্ষা করে। ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
* হিমোগ্লোবিন তৈরি, পেশির শক্তি বৃদ্ধি, ব্রেনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, অনিদ্রা কমানো, শক্ত হাড় ও দাঁত তৈরি, পরিপাকে সহায়তা, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ত্বক ও ঠোঁটের সুস্বাস্থ্যসহ আরো বিভিন্নভাবে উপকারী লইট্টা মাছ।
* এই মাছের তেল দারুণ ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
* লইট্টা মাছ কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
* লইট্টা মাছে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশুদের হাড়ের সুস্থ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
* ব্যায়ামের পর পেশির দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে লইট্টা মাছের পুষ্টিগুণ।
* এতে থাকা ভিটামিন বি১২ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
সূত্র : দৈনিক কালেরকন্ঠ
