’তারিখ : ২৬.১০.২০২৫ খ্রি.
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাত, আর কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হলো প্রাণিসম্পদ। বর্তমানে দেশের দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা অর্জনের পথে খামারিরা বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। সরকারি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আজ গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলোও উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হয়েছে। ঠিক তেমনি কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বালুতুপা গ্রামের মো. ইয়াছিনের ‘আরাফাত এগ্রো’ খামারও এখন সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
২০২০ সালে শখের বশে গরু পালন শুরু করলেও এখন এটি তার নিয়মিত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। খামারে বর্তমানে মোট ২২টি গবাদিপশু রয়েছে—এর মধ্যে ৬টি গাভী, ৬টি বাছুর ও ১০টি ষাড়। দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ লিটার পর্যন্ত দুধ উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা হয়। গরুগুলোর জন্য তিনি হাইব্রিড জাতের কাচা ঘাস, সাইলেজ, খৈল ও ভুসি খাওয়ান। প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, ফলে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের রোগ দেখা যায়নি।

খামার পরিচালনায় একজন শ্রমিক কাজ করেন, যিনি মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতন পান। পাশাপাশি ইয়াছিন নিজেও নিয়মিত খামারের তদারকি করেন। খামারে দুটি শেড রয়েছে এবং এর পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতি বছর খামার থেকে লাভের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও তিনি বাড়ির পাশে মাছ চাষ করেন—যার মাধ্যমে পরিবারের মাছের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করে আয়ও করেন।
প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন ইয়াছিন। তিনি বলেন, “সরকারি পরামর্শ ও তথ্যসেবা পেলে একজন ছোট খামারিও উন্নতি করতে পারে।”
পাশাপাশি তিনি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা থেকে প্রাণিসম্পদ বিষয়ে বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদানের মাধ্যমে তার মতো খামারিরা আরও সচেতন ও আগ্রহী হচ্ছেন।
প্রতিবেদন: খালেক হাসান,কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠকমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা
শখ থেকে সফলতার পথে ইয়াছিনের প্রাণিসম্পদ খামার
35
previous post
