নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের হাটে শুধুই বিক্রি হয় হাঁসের ডিম। হাওর পাড়ের অন্যতম বড় ডিমের হাট এটি। সপ্তাহে তিনটি হাটের মধ্যে অন্যতম বড় মোহনগঞ্জের এই ডিমের হাট। যেখানে নেত্রকোনার হাওর উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ছাড়াও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, মধ্যনগর থেকেও খামারিরা ডিম নিয়ে আসেন। মূলত হাওর পাড়ে উন্মুক্ত হাঁসের খামারে উৎপাদিত ডিমের বড় একটি সরবরাহ আসে এখানে। জেলার হাওর বিস্তৃত ছয়টি উপজেলায় বাণিজ্যিক হাঁসের খামার রয়েছে ১ হাজার ২৬টি। যেখানে প্রতি মাসে হাঁস ও মুরগি মিলিয়ে ডিমের উৎপাদন হয় প্রায়ই ৩৫ লাখ পিস। যার বেশির ভাগ ডিম আসে মোহনগঞ্জ আর আদর্শ নগরের হাটে। ডিম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মোহনগঞ্জের শেখ বাড়ির মোড়ে প্রতি সপ্তাহে বুধবার ডিমের হাট বসে। আমরা এখান থেকে পাইকারি দরে ডিম কিনে অন্যত্র সরবরাহ করি। প্রতি হাটে প্রায় ২ লাখ পিস ডিম ওঠে। এখান থেকে আমি ৩০ থেকে ৪০ হাজার পিস ডিম কিনে ঢাকার তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজার দুই জায়গায় সরবরাহ করে থাকি। ডিমের দরদাম অনেকটা কাঁচা বাজারের মতো ওঠানামা করে। খামারি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সাড়ে ৪০০ হাঁসের একটি খামার রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ থেকে ১৬০০ ডিম হাটে নিয়ে আসি। কখনো ১৪০০, ১৫০০, ১৩০০ ডিম বিক্রি হয়। হাঁসের শুধু ধান দিয়েই চলে না বিভিন্ন খাদ্য দিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে দুই বস্তা খাবার লাগে। এই খরচ মিটায়ে যা কিছুই আসে তাই আয় হয়। এখন আর হাওরে শামুক পাওয়া যায় না। এখন হাঁস পালন করে আমরা লসের মধ্যে আছি।’
খামারিদের অভিযোগ গত বছর যেখানে এ সময় প্রতিশত হাঁসের ডিম এই বাজারে বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। এ বছর তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। মূলত গরমকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম কমিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ খামারিদের। তবে সপ্তাহিক এই হাটে বিক্রি হয় অন্তত আড়াই লাখ পিস ডিম। যার বাজার মূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
শিখন মিয়া বলেন, ‘আমার খামারে ১২০০ হাঁস আছে সপ্তাহে ২২০০ ডিম পাড়ে। সপ্তাহে বিক্রি করে অন্তত ২ লাখ টাকা আসার কথা কিন্তু এখন ১ লাখ টাকাও হয় না। এখন হাঁসকে কী খাওয়াব আর শ্রমিকদের কী বেতন দেব।’
ডিম ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া বলেন, হাওরের অনেক জায়গা থেকেই খামারিরা এখানে ডিম নিয়ে আসেন। একজন খামারি ১০০ থেকে শুরু করে কেউ কেউ ৪ হাজার ৫ হাজার ডিমও নিয়ে আসে। ডিমের দরদাম পুরোটাই ঢাকার বাজারের ওপর নির্ভর করে। ঢাকার বাজারে যদি ডিমের দাম বাড়ে তাহলে এখানেও ডিমের দাম বাড়ে।
জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম বলেন, নেত্রকোনা একটি হাওর বিস্তৃত জেলা। এ জেলায় ডিমের অনেক উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশেষ করে মোহনগঞ্জে ডিমের দুটি বড় হাটের মধ্যে আদর্শ নগর মঙ্গলবার আর মোহনগঞ্জ হাট বুধবার বসে। অতিরিক্ত বা অবিক্রীত ডিম যেন সংরক্ষণ করে রাখতে পারে সেজন্য ওই অঞ্চলের একটি কোল্ড স্টোরেজ সরকারিভাবে নির্মাণ করা যায় কি না তাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শীতকালে ডিমের উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। কিন্তু চাহিদা বাড়ে এবং দামও বৃদ্ধি পায়।
]
সূত্র: দেশ রূপান্তর
