করোনাকালে চাকরি হারানো আশকার উদ্দিন আহমেদ শাহীনের গল্প প্রমাণ করে, প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে কেউই ব্যর্থতা দমিয়ে রাখতে পারে না। ঢাকায় ২০ বছর কমপ্লাইনস ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করার পর করোনার প্রভাবে চাকরি হারান তিনি। তবে হতাশ না হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নে ঢালী কান্দি নিজ গ্রামে জমানো টাকা ও পরিবার ও শ্বশুরের সহযোগীতায় তিনি ২০২২ সালে চারটি ষাঁড় দিয়ে একটি গরুর খামার শুরু করেন।
বর্তমানে তার খামারে ১৮টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি গাভী প্রতিদিন ৫০ লিটার দুধ উৎপাদন করছে। দুধের বাজারে চাহিদা ভালো হওয়ায় লাভজনক ব্যবসা গড়ে উঠেছে।
পাশাপাশি তিনি লেয়ার জাতের মুরগির খামারও চালু করেছেন, যেখানে প্রায় এক হাজার মুরগি রয়েছে। প্রতিটি মুরগি থেকে দৈনিক ২–৩ টাকা লাভ হয়।
শিগগিরই তিনি মাছের খামারও শুরু করতে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, শাহীনের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও লক্ষ্যবদ্ধ ইচ্ছাশক্তি তাকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। প্রতিবেশী আকতারুজ্জামান বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে।’
শাহীন বলেন, ‘ব্যবসা সবচেয়ে স্থায়ী আয় দেয়।
চাকরির ভরসায় না থেকে নিজের উদ্যোগে কাজ করুন। ছোট পরিসরে শুরু করুন, কঠোর পরিশ্রম করুন, সফলতা নিশ্চিত।’ তিনি যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন।
শিবচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোস জানান, শাহীন একজন সফল খামারি ও উদ্যোক্তা। প্রাণিসম্পদ খাত উদীয়মান, নতুন প্রজন্মের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা আমরা প্রদান করব।
