সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি;
প্রথম জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর যন্ত্র ইনকিউবেটর স্থাপন করে প্রাকৃতিক উপায়ে হাঁস, দেশি মুরগি, রাঁজহাস, টাইগার মুরগি, তিতির, কোয়েল পাখি, টার্কি, মিশরী ফাউমি, সোঁনালী মুরগীর ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন উদ্যোক্তা রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু।
তাঁর ইনকিউবেটর স্থাপন করায় উপজেলার বহু বেকার নারী-পুরুষ এখন ছোট-বড় হাস মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। রঞ্জু উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজারের মৃত গিয়াস উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। এই পদ্ধতি বেকারদের ভাগ্য পরিবর্তনেও সহায়ক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর টিনের ঘরে বসিয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর যন্ত্র ইনকিউবেটর । ব্যবসার জন্য একসঙ্গে অধিক পরিমাণে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ইনকিউবেটরের বিকল্প নেই। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা ডিম নিয়ে আসে বাচ্চা ফুটানোর জন্য। সাপ্তাহের প্রতি সোমবার ও শুক্রবার ক্রেতারা হ্যাচারিপল্লিতে ভিড় জমান বাচ্চা সংগ্রহের জন্য। প্রতিটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে নেয়া হয় মাত্র ৫ টাকা। প্রাকৃতিক উপায়ে ডিমে তাপ দিয়ে বাচ্চা ফোটানো হয়। আবার যদি কেও ডিম না দিয়ে বাচ্চা কিনতে চায় সেটারও ব্যবস্থা আছে এই হ্যাচারিতে। প্রকারভেদ অনুযায়ী স্বল্পমুল্যে এক দিন বয়সের হাঁস, দেশি মুরগি, রাঁজহাস, টাইগার, তিতির, কোয়েল পাখি, টার্কি, মিশরী ফাউমি, সোঁনালী মুরগীর বাচ্চা। সে ক্ষেত্রে ভালো জাতের ডিম সংগ্রহ করেন হ্যাচারি মালিক ও কর্মচারীরা। সেগুলোকে পানিতে পরিষ্কার করে বাছাই করে কাঠ দিয়ে বিশেষ ভাবে বানানো ডিম রাখার পাত্রে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। একটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। হ্যাচারি থেকে বাচ্চা নিয়ে খামার করা রনি মন্ডল জানান, আমি এই হ্যচারি থেকে ২০ টি মিশরী ফাউমি মুরগির বাচ্চা কিনে বাড়ীতে পালন করি। কিছুদিন পর মুরগী গুলো ডিম দেয়া শুরু করে। সেই ডিম গুলো জমিয়ে হ্যাচারিতে গিয়ে আবার বাচ্চা ফুটিয়ে আনি। বর্তমানে আমি বাণিজ্যিক ভাবে মিশরী ফাউমি জাতের মুরগি পালন করছি। বয়ড়া কুলঘাট এলাকার কবির মাহমুদ নামে খামার মালিক বলেন, এই হ্যাচারি হওয়ার পর আমি প্রথম আমার স্ত্রীকে ১শ হাস ও ১শ মুরগির বাচ্চা কিনে দেই। সেগুলোকে বাড়ীতে পালন করে বাজারে বিক্রি করি। তাতে ভালো টাকা লাভ হয়। আমার ইচ্ছে আছে বড় পরিসরে খামার করার। ডিম নিয়ে বাচ্চা ফুটাতে আসা হাসনা বেগম, লিলি বেগম, সরনী আক্তার, রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাড়ীতে ডিম ফুটানোর জন্য হাস মুরগি না থাকায় ডিম সংগ্রহ করে এই হ্যাচারিতে নিয়ে আসি। তাছাড়া হাঁস কখনো বাচ্চা ফুটায় না। আগে মুরগি দিয়ে হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হতো। এতে অনেক ডিম নষ্ট হতো এখন আর ডিম নষ্ট হয় না। বাড়ীর কাছে হ্যাচারি আর এখানে কম খরচে ঝামেলা বিহীন ভাবে ডিম ফুটানো যায়। এ বিষয়ে হ্যাচারির উদ্যোক্তা রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, এই পদ্ধতিটা আমি উত্তরবঙ্গে গিয়ে প্রথম দেখি। সেখান থেকেই আমি এলাকার বেকার নারী ও পুরুষের স্বাবলম্বী করা জন্য ব্যতিক্রমধর্মী এই হ্যাচারি স্থাপন করেছি। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়া স্বল্প খরচে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে লালন পালন করে ভালো লাভবান হতে পারবে। আমি এটাতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এছাড়াও বাচ্চা ফুটিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তা বিক্রি করি। এটি লাভজনক হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এসে আমার কাছ থেকে হাঁস মুরগির বাচ্চা কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, রঞ্জু মিয়ার হ্যাচারিটি আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি,
নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। এটি খুব ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগে খামারি ও এলাকার বেকার যুবক-নারীরা স্বাবলম্বী হবে। হ্যাচারিতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়।
