মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঐতিহ্যবাহী দুধের বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের কারখানা। এখানকার ছানা, ঘি, ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। ব্যবসা সম্প্রসারণে সহজ শর্তে ঋণের দাবি উদ্যোক্তাদের। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রশাসনের।
প্রায় তিনশ’ বছরের পুরোনো ঘিওরের এই তেরশ্রী দুধের বাজারে প্রতিদিন সকালে খামারিরা দুধ নিয়ে আসেন। খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের ক্রয়-বিক্রয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকশ মণ দুধ বেচাকেনা হয়। দিনজুড়ে বাজার থাকে সরগরম।
তবে বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। খামারি আরিফ জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই বাজারে প্রতিদিনই প্রচুর দুধ বেচাকেনা হয়। কিন্তু কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই টয়লেট বা ন্যূনতম সুবিধা; বৃষ্টি হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
আরেক খামারি সিদ্দিক বলেন, দূর-দূরান্তের কারখানা মালিকরা এখান থেকে দুধ কেনেন। দুধের বাজার ভালো হলেও খামারিদের সুবিধা বাড়ছে না। বাজারে টিনের ছাউনি বা আশ্রয়কেন্দ্র কিছুই নেই, ফলে বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ায় সমস্যা তীব্র হয়।
এই বাজারকে কেন্দ্র করে তেরশ্রী গ্রামে গড়ে উঠেছে ছানা, ঘি ও বিভিন্ন মিষ্টি তৈরির কারখানা। এসব পণ্য স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। তাই ব্যবসা সম্প্রসারণে সহজ শর্তে ঋণের দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, বাবার প্রতিষ্ঠিত ‘নিজাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর পণ্য এখন বিদেশেও বিক্রি হচ্ছে। সহজ শর্তে সরকারি ঋণ পেলে কারখানা আরও বড় করা এবং রফতানি বাড়ানো সম্ভব।
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদনে জড়িতদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ঘিওরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিতা-তুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসহায়তা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় উপকরণে সহযোগিতা দিতে প্রশাসন কাজ করছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঘিওর উপজেলায় ৮ শতাধিক গবাদিপশুর খামার রয়েছে। এছাড়া ৪ শতাধিক পরিবার ছানা, ঘি ও মিষ্টি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে বেগবান করছে।
