আসেন, বড় বড় পাঙ্গাশ মাছের পাইকার আসেন, রুই মাছের পাইকার আসেন।’ এসব কথা বলে কাকডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় হাঁকডাক। চলে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এই সময়টুকুর মাঝে ময়মনসিংহের ভালুকার বাজারের মাছের আড়ত থেকে প্রতিদিন গড়ে হাত বদল হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ।তবে জমজমাট ওই আড়তে রয়েছে ড্রেনেজ, রাস্তাঘাটসহ গাড়ি পার্কিং সমস্যা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খামার থেকে চাষিরা ভোররাতে মাছ ধরে সূর্য উদয়ের আগেই রিকশা, ভ্যান, অটো বা পিকআপে করে ভালুকার মাছের আড়তে নিয়ে আসেন। বাইরের এলাকা থেকেও ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য মাছ নিয়ে আসেন ভালুকার ওই আড়তে। পরে ঢাকা ও স্থানীয়সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছোট-বড় পাইকাররা কিনে নিয়ে যান ওই সব মাছ। এদিকে ওই আড়তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আড়ত থেকে ঢাকামুখী বিভিন্ন গাড়িতে মাছ পরিবহনের শতাধিক মিন্তি (মাছ বহন শ্রমিক), আড়তের কয়ালসহ কমপক্ষে ৪০০ শ্রমিকের দৈনন্দিন আয়। কথা হলে একাধিক মিন্তি জানান, আড়ত থেকে ঢাকামুখী গাড়িতে প্রতি ক্যারেট মাছ পৌঁছাতে তাঁরা ২০ টাকা করে পান। এতে একেকজন মিন্তি প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ শ টাকা রোজগার করতে পারেন। তবে জমজমাট ওই আড়তে রয়েছে ড্রেনেজ, সড়ক, সড়কের ওপর বসানো দোকান ও গাড়ি পার্কিং সমস্যা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ওই বাজারের রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে। তা ছাড়া রাস্তার অবস্থাও ভালো না এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর বসেছে দোকান। ফলে বাজারে মাছবাহী গাড়ির আসা-যাওয়া, ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হয়। অন্যদিকে নির্ধারিত স্থান না থাকায় ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে মাছ কিনতে আসা পাইকারদের গাড়ি পার্কিং করতে সমস্যা হয়। একাধিক আড়তদার জানান, ভালুকা বাজার মাছের আড়তে প্রতিদিন ফজরের আজানের পরপরই খামারিরা তাঁদের মাছ নিয়ে আসেন। স্থানীয় ও ঢাকা, জামালপুর, শেরপুর, হোসেনপুর, গাজীপুর, গফরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছোট-বড় তিন থেকে চার শ পাইকার প্রতিদিন এসে ভালুকার আড়ত থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। ভোরে মাছ বিক্রি শুরু হয়ে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে। বাজারে মাছ আসার আগেই পাইকাররা মাছের অপেক্ষায় থাকেন। মাছ আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় হাঁকডাক এবং বেচাকেনা। তাঁদের দাবি, বাজারে ১২০টি আড়তের মাঝে বর্তমানে ৮০-৯০টি আড়তে কম বেশি মাছ বিক্রি হয়। ভালুকা বাজার মাছের আড়ত সমিতির সভাপতি সমর পাঠান জানান, ভালুকা বাজার মাছের আড়ত এলাকায় কিছুৃ শেড নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। তবে ড্রেনেজ সমস্যায় বাজারে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, রাস্তাও ভাঙাচোরা, রাস্তার ওপর দোকান। এতে আড়তে মাছবাহী গাড়িসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে কয়েক বছর আগে আড়তদার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ৭৮ হাজার টাকার উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভালুকা বাজার মাছের আড়ত থেকে প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু আড়ত উন্নয়নে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তা ছাড়া নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আড়তে আসা পাইকারদের গাড়ি বাজারের বিভিন্ন গলিতে পার্কিং করে মাছ লোড করতে হয় বলেও জানান সমর পাঠান। তিনি বলেন, গাড়িতে মাছ লোড করার সময় ড্রাম থেকে লবণ মিশ্রিত পানি ছিটকে রাস্তা বা গলির পাশে দোকারের শাটারে গিয়ে লাগে। এতে জং ধরে শাটার নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই দোকান মালিকরা তাঁদের দোকানের সামনে গাড়িতে মাছ লোড করতে দেন না। বিষয়টি নজরে আনা দরকার। পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ভালুকা বাজার মাছের আড়তের কিছু শেড সংস্কার করা হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো অচিরেই সমাধান করা হবে।
ভাঙাচোরা অবকাঠামোয় দিনে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি
২১
previous post
পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম থেকে বছরে আয় কোটি টাকা
next post
