কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার আশকামতা গ্রামে মো. আবুল কালাম আজ একজন পরিচিত নাম। গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ মেখে, পরিশ্রম আর ধৈর্যকে সঙ্গী করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সফল খামার ও ব্যবসা। পেশায় তিনি একজন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হলেও তার মূল পরিচয়-একজন পরিশ্রমী খামারি ও উদ্যোক্তা।
তার এই পথচলার শুরুটা ছিল ২০০৪ সালে। তখন তার হাতে ছিল না বড় কোনো পুঁজি, ছিল শুধু স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। সেই সময় তিনি একটি মাত্র বাছুর কিনে গরু পালন শুরু করেন। গ্রামের অনেকেই তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি, কেউ কেউ সন্দেহের চোখেও তাকিয়েছিল। কিন্তু আবুল কালাম জানতেন, ধীরে ধীরে এগোলেই সাফল্য আসে। তিনি প্রতিদিন গরুটির যত্ন নিতেন নিজের সন্তানের মতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ধাপে ধাপে তিনি তার খামারে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। আজ তার খামারে গাভী ও মোটাতাজাকরণ গরু মিলিয়ে মোট ১৫টি গরু রয়েছে। তার খামারের গরুগুলোর মধ্যে ফ্রিজিয়ান ও জার্সি জাতের গরু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উন্নত জাতের গরু হওয়ায় দুধ উৎপাদনও বেশ ভালো। বর্তমানে তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৬ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এই দুধ তিনি স্থানীয় মিষ্টির দোকানে পাইকারি হিসেবে প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন, যা তার পরিবারের নিয়মিত আয়ের একটি বড় উৎস।
খামারের কাজকর্মে তিনি একা নন। তার সহযাত্রী তার স্ত্রী। খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে খামারের যাবতীয় কাজ দু’জনে মিলেই করে থাকেন। এই পারিবারিক সহযোগিতাই তার খামার পরিচালনাকে আরও সহজ ও টেকসই করেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা কাজে নেমে পড়েন, আবার সন্ধ্যায় গরুগুলোর যত্ন নিয়েই দিনের কাজ শেষ করেন।
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আবুল কালাম বেশ সচেতন। তিনি বাজারের মানসম্মত দানাদার ফিডের পাশাপাশি চাউলের কুড়া, খৈল, ভুষি, সয়াবিন, খড় ও সবুজ ঘাস নিয়মিত খাওয়ান। গরুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে তিনি কখনোই অবহেলা করেন না। কোনো গাভী অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করান।
আজ মো. আবুল কালাম শুধু একজন খামারি নন, গ্রামের অনেক তরুণের জন্য তিনি একজন অনুপ্রেরণা। তার জীবন গল্প প্রমাণ করে-অল্প দিয়ে শুরু করেও সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। গ্রামের মাটিতেই যে বড় উদ্যোক্তা হওয়া যায়, মো. আবুল কালামের গল্প তারই জীবন্ত উদাহরণ।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় এবং তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ বিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
