বগুড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ১৭ মে সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় নবনির্মিত আধুনিক জেলা কসাইখানার উদ্বোধন করেন। এরপর কসাইখানা বগুড়া সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেসের আওতায় ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বগুড়া মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় ৫০ শতক জমির ওপর এটি গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা যাবে। যত্রতত্র গরু-ছাগল জবাই করায় যে হারে পরিবেশদূষণ হচ্ছে, তা এখন রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময় বাঁচবে। বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, মহানগরীর জয়পুরপাড়ায় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আধুনিক কসাইখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর ঠিকাদার চলতি বছরের ৩০ মার্চ নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। তবে আপাতত কসাইখানার কার্যক্রম বন্ধ আছে। লোকবল নিয়োগ দিলে তারাই সেটি পরিচালনা করবেন। নিয়োগ করা লোকবলকে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন প্রশিক্ষণ দেবেন।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান জানান, অত্যাধুনিক কসাইখানাটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে। তিনি কসাইখানাটি পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিতে পারেন। লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান সেখানে প্রশিক্ষিত লোকবল নিয়োগ দেবে। এতদিন আধুনিক কসাইখানা না থাকায় যত্রতত্র গরু-ছাগল জবাই করা হতো। এখন আর হবে না। এখানে জবাই করা গরু-ছাগলের মাংসে সিটি করপোরেশনের সিল দেওয়া থাকবে। তিনি বলেন, এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফলে পরিবেশদূষণের আশঙ্কা নেই। এখানে কয়েকটি ধাপে গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুত (প্রসেস) করা হবে।
এদিকে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন হওয়ায় জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বগুড়া মহানগরীর সুলতানগঞ্জপাড়ার সিরাজুল ইসলাম, বৃন্দাবনপাড়ার আবদুল গফুর, নিশিন্দারার সেকেন্দার আলী ও জয়পুরপাড়ার মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় কসাইরা রাতের আঁধারে বা খুব ভোরে গাভি, রুগ্ণ ও অসুস্থ ষাঁড় জবাই করে দেশি ষাঁড়ের মাংস বলে বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া তারা ভেড়া, পাঁঠা বা রুগ্ণ ছাগল জবাই করে দেশি ভালো ছাগলের মাংস বলে বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন পর হলেও বগুড়ায় আধুনিক কসাইখানা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মাংস বিক্রেতারা ইচ্ছা করলেই এখন জনগণকে ঠকাতে পারবেন না।
সূত্র: যুগান্তর
