‘ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো’ এমন প্রবাদের সত্যতা মিলেছে দেশের পাঙ্গাশ মাছের পোনাসহ বিলুপ্ত দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিউট সান্তাহার প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রে। এ উপকেন্দ্রে নেই ভালো মানের কোনো বিল্ডিং, অফিস, বা আধুনিক পরীক্ষাগার। শত সম্যসার মধ্যেও এ প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রে দেশি বিদেশি প্রজাতির মাছের গবেষণা ও পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জনে এ উপকেন্দ্র দেশের অন্যান্য প্লাবন ভূমির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এতো সফলতার পরও এটিকে পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। বরং দীর্ঘ দেড় যুগের ও বেশি সময় ধরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসার জাঁতাকলে পড়ে মৎস্য অধিদপ্তরের এবং নীতি নির্ধারকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মুখথুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তারপরও থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানের মূল বিল্ডিং অফিস, পরীক্ষাগার, সেমিনার কক্ষসহ বেশকিছু পুরাতন অফিস কক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অফিসারের বাংলোতে চলছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকাসহ আশপাশ এলাকার মাটিও পানি মাছ চাষের উপযোগী। ফলে সান্তাহারে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি মৎস্য গবেষণা প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্র ইনিস্টিউট। এ গবেষণা কেন্দ্রেই দেশের সর্বপ্রথম পাঙ্গাশ মাছের পোনা উৎপাদন করা হয় এবং এতে সফলতা অর্জন করে মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে যায়। এখানকার উৎপাদিত পাঙ্গাশের পোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতীয় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাঙ্গাশ ছাড়াও ভেদা, পবদা, (নুনিনা),বাতাশি, পিয়ালি,খোড়শলা রাইকোর রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছের পোনা উৎপাদন করা হয় এ প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রে। এছারাও এক সময় কুঁচিয়ার পোনা উৎপাদনেও এখানে ব্যাপক সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
ফলে এলাকার মৎস্যচাষিরা এই প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ করে মৎস্য চাষে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বগুড়া-৩ আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া এলাকার সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে এ প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ করা হলে একদিকে এলাকাসহ দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব হবে বলে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা মতপ্রকাশ করেছেন।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
