একসময় মাছ চাষ মানেই ছিল পুকুর কিংবা জলাশয়ের ওপর নির্ভরতা। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে মাছ চাষের প্রযুক্তিও। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বিভিন্ন গ্রামে এখন বাড়ির উঠানজুড়ে দেখা যায় সারি সারি ট্যাংক। আর সেই ট্যাংকেই চাষ হচ্ছে কৈ, শিং, মাগুর ও তেলাপিয়া। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই মাছ চাষের প্রসারের ফলে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘ট্যাংক পল্লী’ হিসেবে।
উত্তরাঞ্চলের খরা ও পানির সংকটপ্রবণ এলাকায় মাছ চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে বিশেষায়িত ট্যাংকে মাছ চাষ প্রযুক্তি।
এই পদ্ধতিতে ট্যাংকের পানি বিভিন্ন ফিল্টার ও যন্ত্রের মাধ্যমে পরিশোধন করে বারবার ব্যবহার করা হয়। ফলে কম পানি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে পার্বতীপুর উপজেলার চণ্ডীপুর, মন্মথপুর, হাবড়া, মোমিনপুর ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ৯৬টি ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এসব গ্রাম এখন যেন একটি ‘ট্যাংক পল্লী’। এখানে মাছ চাষ শুধু একটি পেশা নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মোমিনপুর ইউনিয়নের হয়বত্পুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম নিজের খামারের নাম দিয়েছেন ‘খাদিজা ফিশ ফার্ম’। একটি ২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকে প্রায় পাঁচ হাজার পোনা মজুদ করে প্রতি চক্রে প্রায় ২৫০ কেজি মাছ উৎপাদন করেন। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে তাঁর নিট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। বছরে দুই থেকে তিনবার মাছ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় তাঁর আয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ।
তবে এই পদ্ধতিতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ট্যাংক স্থাপন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়।
পার্বতীপুর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. খালেদ মোশারফ বলেন, ‘যেসব এলাকায় পুকুর নেই কিংবা সারা বছর পানি থাকে না, সেখানে ট্যাংকে মাছ চাষ একটি কার্যকর সমাধান।’ পার্বতীপুরে ট্যাংকভিত্তিক মাছ চাষের এই সফল উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
সূত্র: কালের কন্ঠ
