শায়লা সুলতানা মিলি
বাংলাদেশে রঙিন মাছের চাষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান খাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাধারণত একুরিয়ামে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে যেসব- মাছ পালন করা হয়, সেগুলোই রঙিন মাছ বা শোভাবর্ধনকারী মাছ নামে পরিচিত। এই মাছ অন্যান্য মাছের চাইতে রঙিন, দৃষ্টিনন্দন ও অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির হয়। এদের বন্ধুত্বসুলভ মায়াবী আচরণ ও আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন রং ও বাহারের কারণে এদেরকে ‘জীবন্ত রত্নও’ বলা হয়। শহরাঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক প্রশান্তির জন্য শখের চাষ বৃদ্ধি, এবং গৃহসজ্জায় একুরিয়াম জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে এই খাতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। রঙিন মাছের অধিকাংশই বিদেশি প্রজাতির। বিশেষ করে গাপ্পি, গোল্ডফিশ, মলি, প্লাটি, অ্যাঞ্জেলফিশ প্রভৃতি প্রজাতি বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য বেশি উপযোগী। তুলনামূলকভাবে কম জায়গা, কম পুঁজি এবং সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও এখনো কিছু পরিমাণ রঙিন মাছ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সঠিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে বাংলাদেশে রঙিন মাছের চাষ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশে রঙিন মাছ চাষের দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে বিকাশমান ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাস অনুযায়ী, সায়ামিস গৌরামি মাছ প্রথম ১৯৫২ সালে সিঙ্গাপুর থেকে এবং ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান থেকে গোল্ডফিশ বাংলাদেশে আনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার কাঁটাবন এলাকায় একুরিয়াম মাছের চাষ ও প্রদর্শন শুরু হয়, যা মূলত রেস্টুরেন্ট ও অভিজাত শ্রেণির মানুষের নান্দনিক চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহৃত হতো। বাহারি মাছ পালন প্রথমে শখ হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে এসে তা একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। খুব সহজেই এখান থেকে টাকা আয় করা যায়। ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ প্রথমে ঢাকার কাঁটাবন ও এর আশেপাশের এলাকায় শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য ছোটবড় শহরে বাহারি মাছের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশেই বাহারি মাছের পোনার উৎপাদন শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেছে এবং অনেকাংশেই সাশ্রয় হচ্ছে দেশীয় মুদ্রা। সাধারণ মানুষের মধ্যে একুরিয়াম ব্যবহারের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রঙিন মাছ চাষ একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে, যদিও এখনো এটি উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।
একুরিয়ামের জন্য মাছ নির্বাচন
একুরিয়ামের সৌন্দর্য, মাছের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত মাছ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন একুরিয়াম শৌখিনদের জন্য গাপ্পি, মলি, প্লাটি, জেব্রা, এঞ্জেল ফিশ, নিওন টেট্রা, ফাইটার ফিশ, টাইগার বার্ব এবং গোল্ডফিশের মতো সহজে পালনযোগ্য ও রোগসহনশীল মাছ নির্বাচন করা উত্তম। একুরিয়ামে অতিরিক্ত সংখ্যক মাছ ছাড়ার পরিবর্তে অল্পসংখ্যক সুন্দর, সুস্থ ও সবল মাছ রাখা অধিক সুবিধাজনক, কারণ এতে মাছের চলাচলের পর্যাপ্ত স্থান থাকে এবং পানির গুণগত মান বজায় রাখা সহজ হয়। মাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন প্রজাতি বেছে নেওয়া উচিত যেগুলোর পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩ ইঞ্চির বেশি হয় না। এ ছাড়া ছোট আকৃতির, শান্ত স্বভাবের এবং অন্যান্য মাছের সঙ্গে সহজে মানিয়ে চলতে পারে এমন মিশুক প্রজাতি নির্বাচন করা প্রয়োজন। আক্রমণাত্মক বা বড় আকারের মাছ পরিহার করা উচিত, কারণ এগুলো অন্যান্য মাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সর্বোপরি, মাছের প্রজাতি স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য হওয়া উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় পোনা, খাদ্য ও পরিচর্যা সামগ্রী সহজেই সংগ্রহ করা যায়।
একুরিয়াম স্থাপন ও প্রয়োজনীয় উপকরণ
একুরিয়াম হলো একটি কৃত্রিম জলাধার, যেখানে জলজ উদ্ভিদ, নুড়ি-পাথর এবং বিভিন্ন শৌখিন উপকরণ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশের অনুকরণে রঙিন মাছ পালন, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। একুরিয়াম বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে, যেমন-আয়তাকার, বর্গাকার, গোলাকার বা নান্দনিক নকশাযুক্ত অন্যান্য আকৃতি। তবে মাছের চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্য আয়তাকার সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হয়। একুরিয়ামের আকার ও ধারণক্ষমতা মূলত এটি কোথায় স্থাপন করা হবে এবং ব্যবহারকারীর পছন্দের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে বিভিন্ন আকার ও নকশার প্রস্তুতকৃত একুরিয়াম বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। আকার, কাচের গুণগত মান এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের ভিত্তিতে এর মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে খরচ কমানোর জন্য অনেকেই বাড়িতেই একুরিয়াম তৈরি করে থাকেন। একুরিয়ামের উপরের ঢাকনায় আলো বা বৈদ্যুতিক বাতি সংযোজন করা যায়, যা মাছ ও জলজ উদ্ভিদের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করে। একুরিয়ামের তলায় পরিষ্কার ও রঙিন নুড়ি-পাথর বিছিয়ে দিলে এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং মাছের জন্য আরামদায়ক আবাস গড়ে তোলে। মাছের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিশ্চিত করার জন্য এয়ারেটর বা অক্সিজেন সরবরাহকারী যন্ত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ, শৌখিন খেলনা, ক্ষুদ্র মূর্তি, পাথরের গুহা এবং অন্যান্য সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করে একুরিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায়। এসব উপকরণ বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য এবং প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে সঠিক পরিকল্পনা ও উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি আকর্ষণীয়, স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী একুরিয়াম স্থাপন করা যায়।
মাছের পরিচর্যা
একুরিয়ামে মাছ সুস্থ, সবল ও আকর্ষণীয় রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাছের বয়স, আকার ও প্রজাতি অনুযায়ী সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। সাধারণত বাজারে পাওয়া ফ্লেক, পেলেট বা গ্রানুল ফিড রঙিন মাছের জন্য উপযোগী। এ ছাড়া লাইভ ফুড বা জীবন্ত খাদ্য, যেমন- টিউবিফেক্স, ড্যাফনিয়া, আর্টেমিয়া, ব¬াডওয়ার্ম এবং মশার লার্ভা মাছের বৃদ্ধি, রং উজ্জ্বলতা ও প্রজননে সহায়তা করে। মাছকে দিনে ২-৩ বার অল্প পরিমাণে খাবার দেওয়া উচিত এবং ৩-৫ মিনিটের মধ্যে মাছ যতটুকু খেতে পারে ততটুকুই সরবরাহ করা উচিত। অতিরিক্ত খাবার পানিতে জমে গিয়ে পানির গুণগত মান নষ্ট করে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একুরিয়ামের পানি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাখা মাছের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। সাধারণত প্রতি ৭-১৫ দিন অন্তর মোট পানির ২০-৩০ শতাংশ পরিবর্তন করা ভালো। একসঙ্গে সম্পূর্ণ পানি পরিবর্তন না করাই উত্তম, কারণ এতে পানির পরিবেশ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়ে মাছের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একুরিয়ামের কাচ, তলদেশের নুড়ি-পাথর এবং অন্যান্য উপকরণ নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে শৈবাল, ময়লা ও অবশিষ্ট খাদ্য জমে না থাকে। কখনও সাবান বা অন্য কোনো ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। তবে লবণের ঘন দ্রবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। পানির গুণগত মান বজায় রাখতে উপযুক্ত ফিল্টার ব্যবহার করা প্রয়োজন। ফিল্টার পানির ময়লা, ক্ষতিকর বর্জ্য ও অতিরিক্ত জৈব পদার্থ অপসারণ করে এবং পানিকে স্বচ্ছ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এয়ারেটর বা অক্সিজেন সরবরাহকারী যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যাপ্ত দ্রবীভূত অক্সিজেন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মাছ দীর্ঘদিন সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকবে।
একুরিয়ামে মাছের রোগ ও প্রতিকার
একুরিয়ামের মাছ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যার প্রধান কারণ হলো পানির নিম্নমান, অতিরিক্ত মাছ মজুদ, অপুষ্টি, তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। রঙিন মাছের সাধারণ রোগগুলোর মধ্যে হোয়াইট স্পট, পাখনা পচা রোগ, ছত্রাক সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, পরজীবী সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য। আক্রান্ত মাছের শরীরে সাদা দাগ, তুলার মতো আবরণ, পাখনা ক্ষয়, ক্ষুধামন্দা, অস্বাভাবিক সাঁতার কাটা, পানির উপরে ভেসে থাকা বা তলদেশে স্থির হয়ে থাকার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত মাছকে দ্রুত পৃথক ট্যাংকে স্থানান্তর করা উচিত, যাতে রোগ অন্যান্য মাছের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে। রোগের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ বা লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে একুরিয়ামের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে আংশিক পানি পরিবর্তন করতে হবে। মৃত বা গুরুতর অসুস্থ মাছ দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে এবং অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নিয়মিত পানি পরিবর্তন, ফিল্টার পরিষ্কার, সুষম খাদ্য সরবরাহ এবং অতিরিক্ত মাছ মজুদ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন মাছ সংগ্রহ করলে সরাসরি মূল একুরিয়ামে না ছেড়ে কয়েকদিন পৃথক ট্যাংকে পর্যবেক্ষণে রাখা উত্তম। এ ছাড়া পানির তাপমাত্রা, পিএইচ এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে রাখতে হবে। হঠাৎ করে পানির তাপমাত্রা কমে গেলে মাছ চাপের মধ্যে পড়ে এবং রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় দ্রুত কিন্তু ধীরে ধীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে একুরিয়াম হিটার ব্যবহার করতে হবে। একবারে তাপমাত্রা বেশি বাড়ানো উচিত নয়; ধীরে ধীরে প্রতি ঘণ্টায় ১-২ ডিগ্রি সে. হারে বৃদ্ধি করা নিরাপদ। সঠিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রঙিন মাছের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশে রঙিন মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং দিন দিন এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরায়ন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, গৃহসজ্জায় একুরিয়ামের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শখের মাছ পালনের জনপ্রিয়তার কারণে দেশে রঙিন মাছের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম পুঁজি, স্বল্প জায়গা এবং সহজ ব্যবস্থাপনায় এই ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও শোভাময় মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। রঙিন মাছের চাষের পাশাপাশি একুরিয়াম, একুরিয়াম ফিড, এয়ার পাম্প, ফিল্টার, জলজ উদ্ভিদ, ওষুধ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে একটি শক্তিশালী সহায়ক শিল্প গড়ে উঠছে, যা উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও খুচরা বিক্রয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে রঙিন মাছ শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশে রঙিন মাছের চাষ একটি সম্ভাবনাময়, লাভজনক এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। নগরায়ন, গৃহসজ্জায় একুরিয়ামের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মানুষের শখের পরিসর সম্প্রসারণের ফলে এ খাতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্বল্প পুঁজি, সীমিত জায়গা এবং সহজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রঙিন মাছ চাষ করে আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে সফল উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন, সঠিক একুরিয়াম ব্যবস্থাপনা, উন্নত খাদ্য সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে রঙিন মাছ শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তথ্যসূত্র : শামস মুহাম্মদ গালিব (২০১০) একুরিয়ামের সহজ ব্যবস্থাপনা। বিডিফিশ বাংলা। সংগ্রহ : ০৩ আগস্ট ২০২১। যঃঃঢ়ং://নহ.নফভরংয.ড়ৎম/২০১০/১১/একুরিয়াম-ব্যবস্থাপনা
লেখক : বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ-২২০১। মোবাইল : ০১৬২৫১৫০৩৮১
