ঢাকা,২১/০৫/২৪ খ্রি।
ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২৪ এর কর্মসম্পাদন সূচক “[১.৩.১] এর আওতায় মন্ত্রণালয়/বিভাগসহ আওতাধীন দপ্তর /সংস্থা/বিভাগীয় অফিসসমূহের অংশগ্রহণে ন্যুনতম একটি ইনোভেশন প্রদর্শনী (শোকেসিং) আয়োজিত এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগ নির্বাচিত” কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ আওতাধীন দপ্তর / সংস্থার প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ নিয়ে ১৯ মে(রোববার) বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল, ৪৮, কাজী আলাউদ্দিন রোড, ঢাকা-১০০০-এ একটি ইনোভেশন শোকেসিং (প্রদর্শনী) অনুষ্ঠিত হয় । এতে প্রথম স্থান অধিকার করেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের অনলাইন রিপোর্টিং নামক একটি উদ্ভাবন। উদ্ভাবক কাজী আবু সাঈদ সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার, জামলগঞ্জ, জয়পুরহাট এর উপসহকারি প্রাণিসম্পদ অফিসার (পোল্ট্রি প্রোডাকশন),প্রেষণে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, নওগাঁ।
উদ্ভাবক কাজী আবু সাঈদ সমস্যা সংক্রান্ত বিবৃতি নিয়ে বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন ১২ টি বা তদুর্ধ সংখ্যক সম্প্রসারণ কাযর্ক্রমের মাসিক প্রতিবেদন তৈরী করতে প্রতিটি দপ্তরকে দীর্ঘ সময় ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ করতে হয় । কারণ প্রতিটি উপজেলার ম্যানুয়ালভাবে (৪ – ৫ জন কর্মচারীর ৩ হতে ৪ দিন হিসাব করার মাধ্যমে) তৈরীকৃত রির্পোটের কপি ডাক যোগে বা লোক মারফত জেলা অফিসে প্রেরণ করতে হয় । জেলা দপ্তর সকল উপজেলার রিপোর্ট একইভাবে (যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ, %) একত্রিত করে লোক মারফত বা ডাক যোগে বিভাগীয় অফিসে প্রেরণ করে । অত:পর বিভাগীয় অফিস সকল জেলার রিপোর্ট অনুরূপভাবে একত্রিত করে লোক মারফত বা ডাক যোগে অধিদপ্তরে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে অধিদপ্তর সকল বিভাগের রিপোর্ট ম্যানুয়ালী একত্রিত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে থাকে।
বিদ্যমান পদ্ধতিতে সমস্যা সমূহ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে রিপোর্টিং করতে শ্রমঘন্টা অপচয় ও অনেক জনবল প্রয়োজন হয় । এছাড়াও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অনেকক্ষেত্রে হিসাবনিকাশে ভূল হওয়ার সম্ভবনা থাকে । বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে জরুরী সেবা অধিদপ্তর বলা যায়; যেখানে পশুপাখির চিকিৎসা ও পালন সম্পর্কিত সেবা প্রদান করা হয় । এহেন অধিদপ্তরে শুধু মাসিক রির্পোটিং কাজে অনেক লোকবল ও অধিক সময় সম্পৃক্ত থাকায় জরুরী সেবাসমূহ ব্যহত হচ্ছে । বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মাসিক প্রতিবেদন তৈরীতে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করতে অনেক ভুলের আশংকা থাকে। তদুপরি এই পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ, কর্মঘন্টার অপচয়, প্রিন্টিং খরচ অধিক ও অধিক ঝামেলাপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই একটি রিপোর্টের সঙ্গে অন্য রিপোর্টের গরমিল পাওয়া যায়। পূর্ববর্তী সময়ের মাসিক রিপোর্ট যাচাই করা কষ্টকর । তাছাড়া জেলা অফিস ব্যতীত উর্ধ্বতন অফিসসমূহের উপজেলা দপ্তরের প্রিতিবেদন যাচায়ের সুবিধা নেই।
প্রস্তাবিত পদ্ধতি নিয়ে উদ্ভাবক বলেন, উপজেলা দপ্তর / খামার তাদের নিজ নিজ মাসিক প্রতিবেদন তৈরী করবে যা জেলা উপজেলাসমূহের, বিভাগ জেলাসমূহের , অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় বিভাগসমূহ অনলাইনে স্ব স্ব আইডিতে ক্রমাণ্বয়ে সমষ্টিগত ও ক্রমপুঞ্জিত রিপোর্ট পেয়ে যাবে। ফলে জেলা অফিস হতে উর্ধ্বতন দপ্তর সমূহকে নতুন করে ক্রমপুঞ্জিতভাবে রিপোর্ট তৈরীর ঝামেলা থাকবে না। এই রিপোটিং সিস্টেমে একই ধরনের তথ্য/ডাটা বারবার পূরণ করতে হবে না একবার ইনপুট করলেই হবে। সম্প্রসারণ কার্যক্রমে এপিএ প্রতিবেদনটি পূরণকৃত মাসিক প্রতিবেদন হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটা অনলাইন রিপোটিং সিস্টেম। তাই যে কোন সময়ে পূর্ববর্তী যে কোন মাসের প্রতিবেদন যাচাই করার সুবিধা রয়েছে। এই সফটওয়ার অপারেট করা অতি সহজ কম্পিটার জানা যে কেউ নির্ভুলভাবে ডাটা বা তথ্য ইনপুট করতে পারবে । ফলে সকল প্রকার রিপোর্ট নির্ভুল ও ঝামেলামুক্ত স্মার্ট অফিসের স্মার্ট রিপোর্ট করা যাবে ।
উদ্ভাবনের প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন:, প্রাণিসম্পদের সকল অফিসের মাসিক রিপোর্ট অনলাইন ভিত্তিক প্রণয়ন ও সহজীকরণ। উপজেলা, জেলা ও বিভাগ হতে দ্রুত অন লাইনে প্রাপ্ত তথ্য (ভ্যাকসিনেশন, চিকিৎসা, বাৎসরিক গবাদিপশুর জবাই, কোরবানির সংখ্যা, দুধ, ডিম, মাংসের চাহিদা, যোগান) সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে সঠিক বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন। কৃত্রিম প্রজনন সংক্রান্ত সকল তথ্য যেমনঃ সিমেন সরবরাহ, প্রয়োগ, লিঙ্গ ভেদে বাচ্চা জন্মের তথ্য মাস ও বছর ওয়ার, উপকেন্দ্র/কেন্দ্র ভিত্তিক জানা যাবে। বর্তমানে হাঁস ও মুরগির খামারের সকল তথ্য যেমনঃ ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন, পালন খামার থেকে আয় ও ব্যয় জানা যাবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরী সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যঃ গ্রেড, যোগদানের তারিখ, জন্ম তারিখ, গ্রেডেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নং, ঠিকানা সহ যাবতীয় সকল তথ্য পাওয়া যাবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগ ওয়ারী প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদবী ও শ্রেণী অনুযায়ী কর্মরত ও শূন্য পদের সংখ্যা জানা যাবে। যে কোন সময়ে পূর্ববর্তী যে কোন মাসের প্রতিবেদন যাচাই করার সুবিধা। কম্পিউটার জানা যে কেউ এই প্রোগ্রামটি অপারেট করতে পারবে এবং নির্ভুলভাবে ডাটা বা তথ্য ইনপুট করতে পারবে। অসামঞ্জস্যভাবে মনগড়া তথ্য দেয়ার সুযোগ নাই। সবোর্পরি প্রাণিসম্পদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরীতে সম্পৃক্ত করণ।
বর্তমানে এই প্রোগ্রামে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যে সকল রিপোর্ট অন্তর্ভুক্তঃ
- সম্প্রসারণের সকল রিপোর্ট
- কৃত্রিম প্রজনন রিপোর্ট
- হাঁস খামারের রিপোর্ট
- মুরগি খামারের রিপোর্ট
- প্রাণিসম্পদের জনবল সংক্রান্ত পদ,পদবীসহ চাকুরী বৃত্তান্ত।
বর্তমানে অনলাইন রিপোর্টিং চলমান কাযর্ক্ষেত্র :
এই ওয়েবসাইটে আস্থার সাথে বিগত ২০২১ সাল থেকে রাজশাহী এবং ২০২২ সাল থেকে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের সকল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার শালিখা ও মোহম্মদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মাসিক প্রতিবেদন করে আসছে। অক্টোবর/২০২৩ তারিখ হতে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চট্টগ্রাম, ডিসেম্বর/২০২৩ হতে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বরগুনা মাসিক প্রতিবেদন তৈরীতে সংযুক্ত হয়েছে। জুন/২০২১ হতে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, নওগাঁ এবং সরকারী মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার, জামালগঞ্জ, জয়পুরহাট খামার স্বাচ্ছন্দের সহিত প্রতিবেদন তৈরী করছে।
মো.সামছুল আলম
গণযোগাযোগ কর্মকর্তা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
০১৭৪৬৭৪৯০২০