শাইখ সিরাজ

মাত্র দুই একর জমি থেকে বছরে লাভ পাঁচ লাখ টাকা।
পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ধনিয়া, কাঁচা মরিচ চাষ করেন কালাম। খরচ মূলত সাথি ফসল থেকে উঠে যায়। পেঁপেতে শুধুই লাভ। আবুল কালাম বলেন, পেঁপে চাষে তেমন সমস্যা হয় না। রোগবালাই তেমন নেই। মাঝেমাধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তখন স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেন।
কালামের বাগানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সদর উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, পেঁপেতে মূলত রোগবালাই ও কীটের আক্রমণ এই দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। সেই দুই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে জৈবিক বালাইনাশক ও কীট প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষার চেয়ে প্রতিরোধব্যবস্থাই শ্রেয়।
আবুল কালাম বলেন, প্রতি তিন বছর পর পর পেঁপে চাষের এ জমিতে ধান চাষ করে জমিকে একটু ভিন্নতা দেন। তারপর আবার পেঁপে চাষ করেন। এতে ফলন ভালো পাওয়া যায়। আজকের তরুণ কৃষকরা শিখে নিচ্ছেন কৃষিতে টিকে থাকার নানা কৌশল। একদিকে তাঁরা রচনা করছেন কৃষির নতুন অর্থনৈতিক বলয়, অন্যদিকে জোগান দিচ্ছেন অনেকখানি পুষ্টি চাহিদার। পাশাপাশি কৃষি ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
আবুল কালামের এই পেঁপে বাগানে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এর বাইরে অস্থায়ী শ্রমিকও কাজ করেন। কৃষিতে প্রকৃত লাভ পেতে হলে দেশের বাজারের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হবে আমাদের—এ সত্যও উপলব্ধি করছেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, সরকার যদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিত, তবে গ্যাপ নীতিমালা অনুযায়ী পেঁপে চাষ করার মধ্য দিয়ে বিদেশে রপ্তানি উপযোগী করে চাষাবাদ করতে পারতেন।