প্রাকৃতিক উৎসে কোনো মাছ হারিয়ে গেলে, সেসব মাছকে পুনরুদ্ধারের জন্য লাইভ জিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নীলফামারীতে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষন করা হয়েছে এখানে। শুধু তাই নয় কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে ১২টি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রকৃতিতে।
মাছের জাত বা প্রকার সংরক্ষণের জন্য লাইভ জিন ব্যাংক একটি আধুনিক ধারণা। দেশিয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে, ময়মনসিংহের পর ২০২১ সালে নীলফামারীতে লাইভ জিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট -বিএফআরআই। প্রাকৃতিক উৎসে কোনো মাছ হারিয়ে গেলে সেসব মাছকে পুনরুদ্ধারের জন্য লাইভ জিন ব্যাংক থেকে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে দেশি প্রজাতির ছোট মাছ। দেশে মিঠা পানির মাছের মোট প্রজাতি ২৬১টি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের তথ্য বলছে, দেশে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি ৬৪টি।
ভবিষ্যতে যেন দেশের মাছের সব প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যায় সে উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে এই জিন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে এখানে।
সৈয়দপুর স্বাদু পানি মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন মৌ বলেন, উত্তর অঞ্চলের যেসব মাছ হারিয়ে যাচ্ছে তা যেনো আর বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত ৬২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জানান, মাত্রাতিরিক্ত মাছ আহরণ, পরিবেশগত বিপর্যয়, জলাশয় সংকোচনসহ নানান কারণে মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়লে ফিস জিন ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দেশকে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে এবং সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন মাছের উৎপাদন বাড়াতে জিন ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সৈয়দপুর স্বাদু পানি মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আজহার আলী বলেন, বিলুপ্তের হাত থেকে মাছকে রক্ষা করতে পারি এটাকে লক্ষ্য রেখে জিন ব্যাংকের কাজ করা হচ্ছে। আশা করি যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলো ভবিষ্যতে আর হারাবে না।
সৈয়দপুর স্বাদু পানি মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সফলভাবে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে ১২টি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সূত্র : চ্যানেল ২৪ডট কম