১৯৪
সৃষ্টিকর্তা কতবড় পরিকল্পনাবিদ তার আরেকটি প্রমাণ পাওয়া যাবে চিংড়ির প্রজননে।
সাধারণত ডিমওয়ালা স্ত্রী মাছ পানিতে ডিম ছাড়ার সাথে সাথে একই সময়ে পুরুষ মাছ বীর্য ছাড়ে। এরপর পানিতেই ডিমের সাথে বীর্যের সংমিশ্রণ হয় এবং ডিম নিষিক্ত বা fertilized হয়। এখনে দেখা যাচ্ছে মাছের ডিম ও বীর্য ছাড়া একই সময়ে হয় এবং সাথে সাথে ডিম নিষিক্ত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে ডিম নিষিক্ত হয় যৌন মিলনের সময়। চিংড়ির ডিম হওয়া, যৌন মিলন ও ডিম বীর্যের মাধ্যমে নিষিক্ত হওয়া এক বিস্ময়কর পদ্ধতি।
গলদা চিংড়ির প্রজনন তথ্যঃ
গলদার স্ত্রী চিংড়ি খোলস না পাল্টালে পুরুষের সাথে যৌন মিলন হয় না বা ঘটে না। এদিকে খোলস পাল্টানো স্ত্রী চিংড়ির ডিম্বাশয় বা ডিম কখনোই পরিপক্ব থাকে না, থাকবে না। ইহাই সৃষ্টির নিয়ম।
যৌন মিলনঃ
খোলস পাল্টানো স্ত্রী চিংড়ির পুরুষের সাথে যৌন মিলন ঘটলে পুরুষের বীর্য স্ত্রীর ডিমের সাথে নিষিক্ত হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। কারন তখন স্ত্রী দেহে ডিম নেই। ফলে স্ত্রী চিংড়ি যৌন মিলনে প্রাপ্ত পুরুষের বীর্য (৫ম জোড়া পায়ের গোড়ায় পুংজননন্দ্রিয় ছিদ্র থাকে) নষ্ট বা অকেজো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না। এ অবস্থায় স্ত্রী চিংড়ি যৌন মিলনের পর পুরুষের বীর্য এদের দূপার্শের পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে জমা রেখে দেয়। এর পর স্ত্রী চিংড়ির মধ্যে ডিম হয়। এ ডিম পরিপক্ব হওয়ার পর তা ২য় চলন পদের গোড়ায় থাকা স্ত্রীজননেন্দ্রিয়ের ছিদ্র পথে বা যোনিপথের মাধ্যমে ছাড়ে। এ ছাড়ার সময় দু’পাশের পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা বীর্যের সাথে মিশ্রিত বা নিষিক্ত হয়। নিষিক্ত ডিম বুকের সন্তরণ পদে জমা রাখে এবং পরবর্তীতে তা ফুটে লার্ভি বের হয়।
বাগদা চিংড়ির প্রজনন তথ্যঃ
বাগদা চিংড়ির যৌনাঙ্গ দূ’প্রকারের- প্রধান যৌনাঙ্গ ও অপ্রধান যৌনাঙ্গ। প্রধান যৌনাঙ্গ হল স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ির আভ্যন্তরীন ও বহিস্থ প্রকৃত জননেন্দ্রিয়। পুরুষের পেটাসমা ও স্ত্রী চিংড়ির থেলিকাম হল অপ্রধান যৌনাঙ্গ। অপ্রধান যৌনাঙ্গ পেটাসমার কাজ হল পুরুষের বীর্য থলি স্ত্রীর অপ্রধান যৌনাঙ্গ থেলিকামে স্থানান্তরে সহায়তা করা। স্ত্রী চিংড়ির অপ্রধান যৌনাঙ্গ থেলিকামের কাজ হল যৌন মিলনের সময় প্রাপ্ত বীর্য থলি জমা রাখা। স্ত্রী চিংড়ির ৪র্থ ও ৫ম জোড়া পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে থেলিকাম থাকে এবং পুরুষের প্রথম জোড়া সন্তরণ বা সাতার কাটার পদে পেটাসমা থাকে। পরুষ চিংড়ির ৫ম জোড়া গোড়ায় পুংজননেন্দ্রিয়ের ছিদ্র এবং স্ত্রী চিংড়ির ৩য় জোড়া পায়ের গোড়ায় স্ত্রী জননেন্দ্রিয়ের ছিদ্র থাকে।
যৌন মিলনঃ
প্রাপ্ত বয়ষ্ক স্ত্রী চিংড়ি খোলস না পাল্টালে পুরুষের সাথে যৌন মিলন ঘটে না বা হয় না। এদিকে খোলস পাল্টানো চিংড়ির ডিম্বাশয় পরিপক্ব থাকে না বা এতে ডিম থাকে না। তাহলে খোলস পাল্টানো স্ত্রী চিংড়ির সাথে পুরুষের যৌনমিলন ঘটলে বীর্য ডিমের সাথে নিষিক্ত হওয়ার কোনই সুযোগ থাকে না। কারন স্ত্রী চিংড়ির দেহে ডিম নেই। এ অবস্থায় যৌন মিলনে স্ত্রী চিংড়ি পুরুষ থেকে প্রাপ্ত বীর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না। যৌন মিলনের সময় পুরুষ চিংড়ি তার দূ’টি বীর্য থলে অপ্রধান যৌনাঙ্গ পেটাসমার মাধ্যমে স্ত্রী চিংড়ির অপ্রধান যৌনাঙ্গ থেলিকামে দিয়ে দেয়। এ বীর্য থলি স্ত্রী চিংড়ি তার অপ্রাধান যৌনাঙ্গ থেলিকামে জমা রাখে। এরপর স্ত্রী চিংড়ির ডিম হওয়া আরম্ভ হয় এবং একসময় ডিম্বাশয় পূর্ণ পরিপক্ক হয়। ডিম্বাশয় সম্পুর্ণ পরিপক্ব হলে ( ডিম্বাশয় পরিপক্বতার ৪র্থ পর্যায়) বা চিংড়ি সম্পুর্ন গ্রেভিড হলে রাত ৮-১২ টার মধ্যে ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার সাথে সাথে এর থেলিকামে জমা রাখা বীর্যও ছাড়ে এবং পানিতে ডিম নিষিক্ত হয়।
এতে ইহা স্পষ্ট হল যে গলদা ও বাগদা চিংড়ির ডিম ছাড়ার বহু পুর্বে যৌন মিলন ঘটে এবং স্ত্রী চিংড়ি শরীরে পুরুষের বীর্য জমা রাখে। পরবর্তীতে স্ত্রী চিংড়ির ডিম হওয়ার পর তা যখন ছাড়ে তখন বীর্যের সাথে নিষিক্ত হয়। ডিম ছাড়ার সময় গলদা ও বাগদা চিংড়ির পুরুষের উপস্থিতর দরকার নেই।
এ কারনেই বাগদা চিংড়ি হ্যাচারি পরিচালনার জন্য সম্পুর্ন পরিপক্ব বা গ্রেভিড স্ত্রী হ্যাচারিতে আনলেও পুরুষ দরকার হয় না।
এদিকে হ্যাচারি পরিচালনার জন্য গলদা চিংড়ির মাথার খোলসের নীচে হলুদ ডিম্বাশয় থাকা চিংড়ি ও বুকে ডিম থাকা চিংড়ি সংগ্রহ করলে এর সাথে পুরুষ রাখা দরকার হয় না।