৪৯
সামছুল আলম,০৭/০২/২৩
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল সম্প্রসারণ কার্যক্রমে নবযুগে প্রবেশ করেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় যা যা রয়েছে ঃ
প্রকল্পের আওতায় ৬১ জেলার ৪৬৬ উপজেলায় প্রাণিসম্পদ ভেলু চেইন ভিত্তিক ৫৫০০টি প্রোডিউসার গ্রুপ বা পিজি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পিজির গঠনতন্ত্র, সদস্য আইডি, ব্যাংক হিসাব ও মাসিক সঞ্চয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ও থাকবে। ফলে তাদের সামষ্টিক মূলধন বাড়তে থাকবে। পিজি সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ ও এক্সপোজার ভিজিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠ ও দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য পিজিভিত্তিক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিটি স্কুলের জন্য সাইনবোর্ড, ফাইলকেবিনেট, হোয়াইট বোর্ড, ডাস্টার, মার্কার ইত্যাদি বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।ভবিষ্যতে ফার্নিচারের ব্যবস্থাও হতে পারে। স্থায়ী ও সুসংগঠিত রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ফার্মার্স ফিল স্কুলের জন্য ভেলু চেইন ভিত্তিক সিলেবাস কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত সিলেবাস কারিকুলাম এর আওতায় মডিউল ও ম্যানুয়াল প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে। ডেইরি ভেলুচেইন ম্যানুয়ালে মোট ৫৯টি সেশন রয়েছে, বিফ ফ্যাটেনিং ম্যানুয়ালে ৫৬টি সেশন, ছাগল/ভেড়া ম্যানুয়ালে ৬৮টি সেশন, স্কাভেঞ্জিং চিকেনে ৪১টি সেশন, হাঁস ম্যানুয়ালে ৪০টি সেশন এবং স্পেশিয়ালাইজ্ড ফাউল (যেমন কবুতর বা কোয়েল) ম্যানুয়ালে ২৯টি সেশন রয়েছে। এই ম্যানুয়াল গুলোতে কিছু কমন মডিউল রয়েছেঃ যেমন গঠনতন্ত্র বা গভর্নেন্স, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন, সোশ্যাল ইনক্লুশন, ও ইনভায়নমেন্ট, জেন্ডার ইকুয়ালিটি, ব্যবসা পরিকল্পনা ইত্যাদি। এছাড়াও ভেলু চেইন ভিত্তিক কারিগরী অংশ বা সেশন রয়েছে। প্রতিটি ভেলু চেইন ভিত্তিক ম্যানুয়াল প্রিন্ট শেষ হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা অফিসে প্রেরণ করা হবে। তাছাড়া অনুরোধ ও নির্দেশনা থাকবে সিলেবাস বা সেশন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য।
একদিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিজি সদস্যদের কারিগরী দক্ষতা বাড়ানো ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো হবে, অপর দিকে সঞ্চয়ের মাধ্যমে পিজি সদস্যদের মূলধন বাড়ানো হবে। ফলে তারা তাদের আয় বর্ধনমূলক কার্যক্রমসমূহ পরিচালনায় ব্যবসায়িক রূপ পরিগ্রহ করাতে সক্ষম হবে। এভাবে তারা হাউজহোল্ড লাইভস্টক থেকে বাণিজ্যিক লাইভস্টক এন্টারপ্রাইজ গড়ে তুলবে ও টেকসই হবে। ম্যাচিং গ্রান্টের আওতায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উন্নয়ন করে এসব পিজির সাথে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ স্থাপন করা হবে ২০২৩ সালেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পিজি থেকে ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সফটওয়ার তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব ডাটাবেজে স্তরভেদে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রকল্পের চীফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর জনাব গোলাম রাব্বানী বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে কর্মে ও মর্মে নিজেদের স্মার্ট করি, গড়ে তুলি আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট লাইভস্টক সেক্টর। এগিয়ে যাবে দেশ এগিয়ে যাব আমরা। আমরাই পারি এটাই প্রমাণ করব ঐক্যবদ্ধভাবে।