
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। অথচ অবৈধভাবে জাটকা আহরণের নেপথ্যে কিছু মানুষ কাজ করছে। অবৈধ মৎস্য আহরণে যে ট্রলারগুলো পাওয়া যায় সেগুলো সাধারণ মৎস্যজীবীদের নয়, কিছু ধনী অসাধু ব্যক্তির। তারা সমাজ ও দেশের শত্রু।
পুষ্টিকর মাছ ইলিশ যাতে বৃদ্ধি করা না যায় সেজন্য তারা কাজ করে। অনেক সময় বিষাক্ত দ্রব্য নির্গমণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে না। এভাবে নানা রকম ক্ষতিকর ভূমিকায় বিভিন্ন সেক্টরের অসাধু ব্যক্তি সম্পৃক্ত রয়েছে। এগুলো বন্ধে ইলিশের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মনিটরিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দেশের মৎস্য সম্পদের যারা শত্রু তাদের ব্যাপারে কোনো তদবির শোনা হবে না। এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। ’
আজ সোমবার জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালন ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, জাটকা সম্পৃক্ত ৬টি জেলা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, নৌপুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, র্যাব ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি এবং মৎস্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি নেওয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশসম্পদ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা হবে। অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত অভিযানে অত্যাধুনিক জলযান সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। তবে ইলিশ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা না গেলেও বিদ্যমান জনবল ও নৌযান দিয়ে সমস্যা মোকাবিলার আপাতত চেষ্টা করতে হবে।
এর স্থায়ী সমাধানে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।
কোভিডকালে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শরীরের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য শাক-সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পর্যাপ্ত পরিমাণ খেতে হবে। এ মুহূর্তে করোনার ভয়াবহ বৈশ্বিক সমস্যা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে মোকাবিলা করতে মাছ, মাংস, দুধ ডিমের উৎপাদন ও বিপণন বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ইলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইলিশ উৎপাদনে আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থানে রয়েছি।
বিডি প্রতিদিন