ময়ূরের পেখম তুলে নাচ প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে তাকে। সেই মুগ্ধতা থেকে পরবর্তীতে খামার করার জন্য আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের শতাধিক ময়ূর রয়েছে। বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকার ময়ূর। ময়ূরের খামারের পাশাপাশি বাবার পুরনো পেশা গরুর খামার রয়েছে শাহ আলীর,সেখানে রয়েছে ৮টি উন্নত জাতের গাভী, যা থেকে প্রতিদিন ৬০ লিটার দুধ পেয়ে থাকেন। দেখা যায়, ময়ূর খামারি বললে সবাই এক নামে চেনে শাহ আলীকে। খামারের ভেতর মনের আনন্দে উড়ছে ময়ূর। স্থানীয় বাসিন্দা ডালিম মোল্লা বলেন, ‘ছোট থেকেই শাহ আলী অনেক পরিশ্রমী। তার বাবার গরুর খামার ছিলো, সেও ময়ূর পালন করে এলাকায় সারা ফেলেছে। অনেক দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসে ময়ূর দেখতে ও কিনতে। এটি আমাদের এলাকার জন্য গর্ব যে তার মত একজন লোক ময়ূর পালন করে সাবলম্বী হয়েছেন। উদ্যোক্তা শাহ আলী বলেন, ‘আমার বাবা আগে গরুর খামার করেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর গরুর খামারের পাশাপাশি ময়ূর পালন শুরু করি। ৭টি ময়ূর থেকে ডিম বাচ্চা ফুটিয়ে আমার খামারে বর্তমানে প্রায় ১০০ টির মত ময়ূর রয়েছে। সৌখিন মানুষ এগুলো কিনে পালন করেন। ময়ূর ভেদে প্রতি জোড়া ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ।ময়ূরের পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকি।ময়ূরের ডিম বিক্রি করি ১০ হাজার টাকা হালি। তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত সর্বমোট ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। আরও ৩০ লাখ টাকার ময়ূর খামারে রয়েছে। এটা সৌখিন জিনিস, অনেকে সখের বসে কিনে নিয়ে যান। এক জোড়া বড় ময়ূর বিক্রি করেছি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আমি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করতে চাই। যারা ময়ূরের খামার করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে শাহ আলী বলেন, ময়ূর লালন-পালন খুবই সহজ। এটা সৌখিন জিনিস। কেউ ভুল করে আগে খামারের পরিকল্পনা করবেন না। শুরুতে দুই-এক জোড়া পালন করে যদি মনে করেন পারবেন, তাহলে খামার করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। হঠাৎ চাইলেই ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না, তাই ময়ূরের খামার করে সাফল্য অর্জন করতে হলে পাশাপাশি অন্য একটা ইনকামের জায়গা থাকতে হবে। তিনি একটু আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। মানুষের পছন্দ হলে কিনবে। যারা বেকার রয়েছেন, বা চাকরি খোঁজেন তারা চাইলে সখের বসে ময়ূর পালন করতে পারেন।তবে বিষয়টি ভেবে চিন্তে করতে হবে,পালন করা সহজ হলেও যখন তখন বিক্রি করতে না পারার বিষয়টিও দেখতে হবে। ময়ূর পালনে যে কোনো পরামর্শ দিতে আমি প্রস্তুত।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, আমাদের উপজেলায় শাহ আলীর খামার একমাত্র ময়ূর খামার। নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন ও সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
