মোঃ রফিকুল ইসলাম-কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন গ্রামের এক পরিশ্রমী গরুর খামারির সফলতার অনুপ্রেরণামূলক গল্প। ত্রিশ বছর আগে তিনি যখন গরুর ব্যবসা শুরু করেন, তখন তার হাতে ছিল মাত্র একটি-দুটি গরু। সৎ পরিশ্রম, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসাকে মূল শক্তি করে তিনি আজ দাঁড়িয়েছেন এক সফল খামারি হিসেবে।
দীর্ঘদিন গরুর ব্যবসার পাশাপাশি তিনি নিজের বাড়িতে ছোট পরিসরে গরু লালন-পালন করতেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট শখের খামারই আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় যেখাবে এক-দুটি গরু নিয়ে শুরু করেছিলেন, আজ সেখানে রয়েছে মোট ২৪টি গরু-শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও সংকর জাতের গাভীসহ বিভিন্ন জাতের পশু। নিজের শ্রম, পরিবারের সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি খামারকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে।
রফিকুল ইসলাম তার গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনায়ও অত্যন্ত যত্নশীল। বাড়তি খরচের বোঝা না বাড়িয়ে তিনি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গরুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করেন। চাউলের কুঁড়া, খড়, সবুজ ঘাস, ভূষি, সয়াবিন-এই সব সহজলভ্য খাদ্য দিয়েই তিনি তার গরুগুলোকে সুস্থ ও সবল রাখেন। বিশেষ কোনো খাবার বা অতিরিক্ত ফিড ব্যবহার না করেই কীভাবে গরুকে সুস্থ রাখা যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ তিনি।
অসুস্থ গরুর ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের উপর নির্ভর না করে নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে রোগ-ব্যাধি দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষমতা। এর ফলেই তার খামারে গরুর মৃত্যুহার অত্যন্ত কম, আর উৎপাদনশীলতা বেশি। খামারের সব কাজ তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলেই করেন। এতে যেমন খরচ কমে, তেমনি পরিবারের সবাই একসঙ্গে মিলে কাজ করার আনন্দও উপভোগ করেন।
দুধ উৎপাদন তার খামারের আরেকটি সফল দিক। প্রতিদিন গড়ে তার খামার থেকে উৎপাদিত হয় প্রায় ৮০ লিটার দুধ। এই দুধ তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে বিক্রি করেন। মানসম্মত ও বিশুদ্ধ দুধ হওয়ায় স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। তার কাছ থেকে প্রতিদিনই নিয়মিতভাবে অনেক পরিবার দুধ সংগ্রহ করে থাকে। এভাবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত দুধ সরবরাহ করে তিনি এলাকায় একটি নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছেন।
রফিকুল ইসলামের সারা জীবনের পরিশ্রম আজ তাকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে। নিজের উদ্যোগে দাঁড় করানো খামার আজ তার পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধির প্রধান অবলম্বন। অনেকেই তার কাছে খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ নিতে আসে। নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণকে তিনি উৎসাহিত করেন গরুর খামার গড়ে তুলতে।
তার গল্প আমাদের শেখায়-পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ধৈর্য থাকলে ছোট উদ্যোগও এক সময় বড় সফলতায় পরিণত হয়। কোনো কিছুই একদিনে হয় না; তবে চেষ্টা ও ভালোবাসা থাকলে স্বপ্ন একসময় বাস্তব রূপ পায়। দিশাবন গ্রামের এই প্রখ্যাত খামারি মোঃ রফিকুল ইসলাম আজ এলাকার মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা। তার সফলতার গল্প প্রমাণ করে-গ্রামের সাধারণ মানুষও চাইলে নিজের প্রচেষ্টায় পরিবর্তন আনতে পারে নিজের জীবনেই নয়, সমাজেও।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় এবং তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ বিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
