নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
পেশায় তিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, কিন্তু আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগরের পাশাপাশি তিনি এখন একজন সফল খামারি। বলছিলাম কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা গ্রামের জসিম উদ্দিনের কথা। ২০২২ সালে পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শুরু করা তার এই খামারটি এখন স্থানীয় পর্যায়ের একটি মডেল বা উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
ক্ষুদ্র থেকে বিশাল কর্মযজ্ঞ
মাত্র দুই বছর আগে খামার শুরু করলেও বর্তমানে জসিম উদ্দিনের খামারে পশুর সংখ্যা নজরকাড়া। তার খামারে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৪টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ১টি দুগ্ধবতী গাভী এবং ৬টি স্বাস্থ্যবান বাছুর রয়েছে। দেশী ও সংকর জাতের এসব গরুর সঠিক পরিচর্যার জন্য তিনি মাসিক ১৮ হাজার টাকা বেতনে একজন স্থায়ী শ্রমিকও নিয়োগ দিয়েছেন।
বিজ্ঞানসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা
খামারের গরুগুলোর পুষ্টি নিশ্চিত করতে জসিম উদ্দিন চিরাচরিত খাবারের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈলের পাশাপাশি তিনি গরুগুলোকে ‘সাইলেজ’ (সংরক্ষিত ঘাস) খাওয়ান, যা পশুর দ্রুত বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। খামারি হিসেবে তিনি বেশ সচেতন; খামারে ইতিপূর্বে লাম্পি, ক্ষুরা ও ঠান্ডাজনিত রোগের আক্রমণ হলেও সঠিক সময়ে ঔষধ ও ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তিনি বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এই কাজে তিনি নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করেন।
সফল মিশ্র খামার ও বহুমুখী আয়
জসিম উদ্দিন কেবল পশুপালনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন মিশ্র প্রজাতির মাছের পুকুর, যা তার খামার পরিচালনায় বড় ধরনের আর্থিক জোগান দেয়। এছাড়াও তার খামারে রয়েছে ২০টি দেশি হাঁস। পশুপালন, মাছ চাষ এবং হাঁস পালনের এই সমন্বিত উদ্যোগ তাকে একজন বহুমুখী সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার খামারের গরুগুলো সাধারণত স্থানীয় পশুর হাটেই বিক্রি করা হয়।
বেকারদের প্রতি বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তরুণ ও বেকারদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, “পশুপালনে যথেষ্ট লাভ আছে। যদি কেউ সঠিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠুভাবে তদারকি করতে পারে, তবে এই পেশায় নিশ্চিতভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।”
শিক্ষকতার এই মহৎ পেশার পাশাপাশি তার বড় স্বপ্ন হলো বর্তমান খামারটিকে অদূর ভবিষ্যতে একটি বিশাল পরিসরের ‘ডেইরি ফার্ম’-এ রূপান্তর করা।
সবশেষে, সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের দক্ষ করে তুলতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ মুদ্রণ সামগ্রী ও লিফলেট বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, যা জসিম উদ্দিনের মতো আধুনিক খামারিদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনে বিশেষ সহায়তা করছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি খামারে স্বাবলম্বী
১৯
previous post
