১৮.১২.২০২৫ খ্রি.
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
সংসারের চাকা সচল রাখতে বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজছিলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়া। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৫ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করেন পশুপালন। দীর্ঘ ৯ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় আজ তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত খামারি। গরুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করে তিনি এখন স্বাবলম্বী, যা তার ৫ সদস্যের পরিবারে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা।
বর্তমানে বাচ্চু মিয়ার খামারে ৬টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে দেশী ও সংকর জাতের গরুর প্রাধান্য বেশি। খামারের কাজের সুবিধার্থে তিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন অভিজ্ঞ শ্রমিকও নিয়োগ দিয়েছেন। শ্রমিকের পাশাপাশি বাচ্চু মিয়া নিজেও খামারের নিয়মিত তদারকি করেন। গরুগুলোকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈল দেওয়া হয়, যা পশুর দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
দীর্ঘদিন খামার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে বাচ্চু মিয়া জানান, পশুপালনে নানা সময় লাম্পি, ক্ষুরা ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তবে রোগবালাই দমনে তিনি বেশ সচেতন। নিয়মিত ঔষধ ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখেন। সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় তার খামারে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটাই কম।
বাচ্চু মিয়ার এই উদ্যোগ কেবল গরু পালনেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি তার খামারের পাশাপাশি একটি ছোট পোল্ট্রি ইউনিটও গড়ে তুলেছেন। সেখানে বর্তমানে ৮টি দেশি হাঁস, ১০টি মুরগি এবং ৫টি চিনা হাঁস রয়েছে। গরু পালনের পাশাপাশি এই হাঁস-মুরগি থেকে পাওয়া আয় ও পুষ্টি তার খামারটিকে একটি আদর্শ মিশ্র খামারে রূপ দিয়েছে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “বিকল্প আয়ের জন্য শুরু করলেও এখন এটিই আমার নেশা ও পেশা। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে খামারটি বিস্তার করার পরিকল্পনা আছে আমার।”
উল্লেখ্য যে, খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালনে উদ্বুদ্ধ করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক মুদ্রণ সামগ্রী খামারিদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, যা বাচ্চু মিয়ার মতো সাধারণ খামারিদের সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে।
বিকল্প আয়ের সন্ধানে নেমে সফল বাচ্চু মিয়া
২৩
previous post
