কুমিল্লা,২৬-৬-২৫ খ্রি.
কুমিল্লার দক্ষিণ সদর উপজেলার রাজাপাড়া গ্রামের আতিকুর রহমান ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে ছোট পরিসরে মাত্র ৩টি গরু নিয়ে দুগ্ধ খামার পরিচালনার স্বপ্ন দেখেছিলেন; তখন কেউ ভাবতেও পারেনি একদিন সেই খামার রূপ নেবে একটি পূর্ণাঙ্গ দুগ্ধ খামারে। আজ তার এআর (AR )ডেইরি ফার্ম-এ রয়েছে ১৪টি গরু ও ৬টি বাচ্চা যার মধ্যে শাহীওয়াল, শংকর ও দেশি জাতের গবাদি পশু রয়েছে।
খামারের একজন কর্মচারী কপিল বলেন, মাসিক ১৬ হাজার টাকা বেতনের তিনজন সার্বক্ষণিক কর্মচারীও রেখেছেন খামারে। খামারটি কেবল তার পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই মজবুত করেনি, পাশাপাশি একটি কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। গরুগুলোর সুষম খাদ্যের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভুট্টা, চাউলের খুদ, ভুষি, সয়াবিন ও খড়ের পাশাপাশি নিজ জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাসও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা হয়। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে কোম্পানির ফিডও ক্রয় করে থাকেন।
তবে এই দীর্ঘ পথচলায় কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। গরুগুলোর মাঝে একাধিকবার ক্ষুরা রোগ, এলএসডি রোগ ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যথাসময়ে স্থানীয় পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি গবাদি পশুগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন। বলা যায় কোন প্রশিক্ষণ ছাড়ায় নিজ প্রচেষ্টায় খামারটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কপিল বলেন, “খামার মালিকের ইচ্ছে আছে, খামারটা আরও বড় করবে। প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে সকল প্রকার খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি টাকা লাভ থাকে। তেমনি স্থানীয় হাটে ও স্থানীয় জনগনের কাছে তার খামারের দুধের সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লা থেকে খামারটি পরিদর্শন করা হয় এবং খামারিকে তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দিয়ে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেয়া হয়। সেইসাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যাতে তিনি খামার পরিচালনার জন্য প্রাথমিক জ্ঞান ও পরামর্শ পেতে পারেন। সেই সঙ্গে গ্রামের সাধারণ জনগণের মাঝে জনসচেনতার জন্য মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে বিতারণ করা হয়। খামার গড়ে তোলার এই গল্প শুধুই অর্থনৈতিক সাফল্যের নয়, বরং এটি একজন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতার প্রতিচ্ছবি। আতিকুর রহমানের মতো খামারিরা আজ দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন।
