কুমিল্লা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লা জেলার বিবির বাজার ইউনিয়নের পূর্ব তৈতি পাড়ার উদ্যোক্তা মো. মোন্নাফ স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালে শুরু করেন মাছ চাষের যাত্রা। শুরু থেকেই তিনি নিজের শ্রম, মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে দুই একর আয়তনের পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন, যা আজ এলাকায় একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
খামারের মালিক মো. মোন্নাফ জানিয়েছেন, এক সময় তিনি শুধু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে নিজের জমিকে কাজে লাগিয়ে পাশাপাশি মাছ চাষ করার পরিকল্পনা করেন। সেই ভাবনা থেকেই আজকের এই খামার। বর্তমানে তার খামারে একজন শ্রমিক কাজ করছেন, যিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে নিয়োজিত।
খামারে প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি তিনি উন্নতমানের ফিড ব্যবহার করছেন, যাতে মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। বর্তমানে পুকুরে গুলশা, ট্যাংরা, রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউশ ও সিলকার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ মাছ চাষ খামারটির অর্থনৈতিক সাফল্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, বছরের শেষে খামার থেকে ভালো পরিমাণে আয় হয়, যা পরিবারকে স্বচ্ছল করেছে এবং তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে। তার মতে, “বেকার হয়ে বসে থাকার কোনো মানে নেই। যে কেউ চাইলে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। আমি এর জীবন্ত উদাহরণ।”
পরিদর্শনকালে নিকটস্থ মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মুদ্রণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়, যা মাছ চাষিদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মো. মোন্নাফ বলেন, তিনি আরও বড় পরিসরে মাছ চাষ করতে চান। বর্তমানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা কাজে লাগিয়ে তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয়ভাবে অনেকে তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং মাছ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। তার এই উদ্যোগ শুধু তাকে নয়, এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছে।
এভাবেই পূর্ব তৈতি পাড়ার মো. মোন্নাফ তার দৃঢ় মনোবল, পরিশ্রম ও মনের জোরে এগিয়ে যাচ্ছেন সফলতার পথে।
প্রতিবেদক : খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
