কুমিল্লা , ২১.০৯.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লার আদর্শ সদর, পূর্ব কাজীপাড়া গ্রামে অবস্থিত মাওলানা সাদেক আলীর খামারটি আজ এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তিনি মূলত কৃষি কাজের পাশাপাশি ১৯৯৫ সালে মাছ ও গবাদি পশু নিয়ে খামার শুরু করেন। দীর্ঘদিনের শ্রম, অধ্যবসায় এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনার ফলে বর্তমানে এটি একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয়দের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
খামারে বর্তমানে রয়েছে ১২টি গাভী, যেগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮-৯ কেজি দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া ১২টি বাছুর এবং ৩টি ষাঁড়সহ মোট ২৭টি গবাদিপশু রয়েছে। দুধ বিক্রি করে প্রতিদিনই তিনি আয় করছেন, যা তাঁর পারিবারিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে। পশুগুলোর দেখাশোনা করার জন্য খামারে একজন শ্রমিক কাজ করেন, যিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে নিয়োজিত। সীমিত লোকবল দিয়েও নিয়মতান্ত্রিকভাবে খামার পরিচালনা করায় মাওলানা সাদেক আলীর দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
খাদ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর দূরদর্শিতা। খামারের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে তিনি নিজস্ব ৭০ শতক জমিতে সয়াবিন, ভুট্টা, কুড়া ও ঘাস উৎপাদন করছেন। এতে বাইরের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে, উৎপাদন খরচ হ্রাস পেয়েছে এবং লাভের অঙ্ক বেড়েছে। কৃষিভিত্তিক স্বনির্ভরতার এই উদাহরণ নিঃসন্দেহে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
খামার গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাবলম্বী হওয়া। তিনি বলেন, “বসে না থেকে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন করলে একজন বেকার যুবকও সহজেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।” তাঁর মতে, শুধু চাকরির দিকে তাকিয়ে না থেকে গ্রামে বসেই অনেক তরুণ-তরুণী কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
তাঁর এই চিন্তা বাস্তবে রূপ দিতে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তিন মাস মেয়াদী একটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তিনি খামার পরিচালনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও নিয়মিত পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে খামারকে আরও সম্প্রসারণ করা যায়।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে মাওলানা সাদেক আলী জানান, তিনি শিগগিরই বড় আকারে ডেইরি ফার্ম করার উদ্যোগ নেবেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক ব্যবস্থাপনায় ডেইরি ফার্ম শুধু তাঁর পরিবারের আর্থিক উন্নতিই ঘটাবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতি বছরের শেষে তিনি উল্লেখযোগ্য লাভ করেন। এই আয় তিনি পরিবারে ব্যয় করার পাশাপাশি খামার সম্প্রসারণেও বিনিয়োগ করছেন। ফলে তাঁর স্বপ্ন আরও বড় হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি সহযোগিতা বাড়লে তাঁর স্বপ্নের ডেইরি ফার্ম বাস্তবে রূপ নেবে।
উল্লেখযোগ্য যে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে বিনামূল্যে বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে, যা খামার পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের সহযোগিতা গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
মাওলানা সাদেক আলীর এই খামার শুধু একটি আয়ের উৎস নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের প্রতীক। তাঁর এ সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেদক : খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
