১৭ নভেম্বর ২০২৫খ্রি.
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মির্জা সাগর গ্রামের শান্ত পরিবেশে তৈরি হয়েছে এক অনুপ্রেরণার গল্প। বিদেশে বহু বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে কর্মসংস্থান তৈরি করার স্বপ্ন ছিল মোহাম্মদ আলীর। সেই স্বপ্ন নিয়েই তিনি ২০১৬ সালে শুরু করেন ‘মোহাম্মদ আলী এগ্রো’ নামের গবাদি পশুর খামার। শুরুটা ছিল অনেক ছোট, মাত্র পাঁচটি গাভী দিয়ে। কিন্তু মনোবল ও পরিশ্রম ছিল অসাধারণ। তাই খুব অল্প সময়েই তাঁর খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। একসময় এই খামারে গবাদি পশুর সংখ্যা পৌঁছে যায় একশোতে—যা গ্রামের মানুষের মধ্যেও চমক সৃষ্টি করে।
বর্তমানে খামারে আছে ফ্রিজিয়ান জাতের ২টি গাভী, ৫টি বকনা বাছুর, ৪টি শাহীওয়াল ষাড় এবং ১টি দেশী ষাড়। প্রতিটি গাভী থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। এলাকার দুধের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে তাঁর এই খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুধের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও বেশি।
পশু খাদ্যের ব্যবস্থাপনা খামারের অন্যতম শক্তি। তিনি ভুসি, মিক্সার ও ঝাউ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি আছে ১০ গন্ডা নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাস। এই ঘাস পশুকে দেয়ার ফলে তারা পুষ্ট থাকে এবং খাদ্য খরচও অনেক কমে যায়। তবে খামারে কখনো কখনো পেট ফোলা, এফএমডি ও ম্যাস্টাইটিসের মতো রোগ দেখা দিয়েছে। সে সময় তিনি চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা করিয়ে পশুগুলোকে সুস্থ করেছেন। এখনো তিনি প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি, তবে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণের ইচ্ছা রয়েছে।
শুরুতে খামারে ৫ জন শ্রমিক রাখা হলেও বর্তমানে ১ জন শ্রমিকই নিয়মিত খামারে কাজ করেন, তাকে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেন। অনেকটা কাজ তিনি নিজেই তদারকি করেন। খামারে মোট দুইটি শেড আছে, যার মধ্যে একটি বড়। শেডগুলোর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল। দুধ দোহন, খাবার সংরক্ষণ এবং পশুর পরিচর্যা—সবই আলাদা করে রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন মোহাম্মদ আলী। গরুর খামারের পাশাপাশি তিনি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ১০টি হাঁস-মুরগি পালন করেন। খামারের চারপাশে খালি জায়গায় চাষ করেন করলা, শসা, মুলা, পেপেসহ নানা সবজি। এগুলো নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি খরচ কমাতেও সাহায্য করে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খামারটিকে আবারও বড় করতে চান। এক সময় তাঁর খামারে যেমন ১০০টি গরু ছিল, আবারও সেই অবস্থায় ফিরতে চান। আরও আধুনিক শেড, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং বেশি সংখ্যক দুধ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। তিনি চান, খামারের মাধ্যমে এলাকার আরও কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হোক।
গ্রামের মানুষ এখন ‘মোহাম্মদ আলী এগ্রো’-কে শুধু একটি খামার হিসেবে নয়, বরং স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং সফলতার প্রতীক হিসেবে দেখে। বিদেশফেরত এক তরুণ নিজের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে কীভাবে নিজের জায়গাকে বদলে দিতে পারে—তার বাস্তব উদাহরণ হলো এই খামার।সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় এবং তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ বিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
