২০০৫ সালে বাজগড্ডা এলাকায় শামীম নেওয়াজ চৌধুরী অত্যন্ত যত্ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তার স্বপ্নের প্রকল্প ‘আশা পোল্ট্রি ফার্ম’। দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় নিজের মেধা ও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি খামারটিকে আজ একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বর্তমানে পেশাগতভাবে তিনি একজন সফল কৃষক হলেও তার মূল পরিচিতি এখন একজন আদর্শ খামারি হিসেবে। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে বর্তমানে একজন নিয়মিত শ্রমিক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং খামারের কাজের পরিধি অনুযায়ী আরও দুইজন অনিয়মিত শ্রমিক বিভিন্ন সময়ে তদারকিতে সহায়তা করে থাকেন। শামীম নেওয়াজ চৌধুরীর এই বহুমুখী খামারটি এখন স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামারের গবাদি পশু বিভাগে বর্তমানে উন্নত সংকর জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি দুগ্ধবতী গাভী এবং তিনটি বাছুর খামারের শোভা বাড়াচ্ছে। গরুগুলোর সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং নিয়মিত দুধ উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত সুষম খাদ্যের তালিকা অনুসরণ করেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তিনি ভুট্টা, খড়, ভুষি ও খুদির পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে কাঁচা ঘাস নিশ্চিত করেন। গবাদি পশু পালনে মাঝেমধ্যে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়, যেমন তার খামারের গরুগুলো মাঝেমধ্যে বদহজমে আক্রান্ত হয়। তবে এই বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং নিয়মমাফিক সঠিক ঔষধ ও ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে তিনি পশুপালনের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে এনেছেন।
বর্তমানে তার খামারের গাভী দুটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ কেজি করে টাটকা দুধ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদিত এই দুধের চাহিদা স্থানীয় বাজারে বেশ ব্যাপক। প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে এই দুধ সরবরাহ করেন, যা তার খামারের নিয়মিত আয়ের একটি বড় উৎস। পশুপালনের পাশাপাশি শামীম নেওয়াজ চৌধুরীর পোল্ট্রি খামারটিও বেশ বড় পরিসরের। তিনি বর্তমানে দুটি বিশাল শেডে ৪,০০০টি লেয়ার মুরগি পালন করছেন। এই পোল্ট্রি ইউনিট থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ডিম উৎপাদিত হয়, যা বাজারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আর্থিক সচ্ছলতার ক্ষেত্রে শামীম নেওয়াজ চৌধুরী একটি চমৎকার ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করেন। প্রতিদিনের দুধ ও ডিম বিক্রির আয়ের বাইরেও তিনি প্রতি বছর খামার থেকে অন্তত একটি করে গরু স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি করেন। এর ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তার হাতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ আসে, যা খামারের উন্নয়ন এবং ৪ সদস্যের পরিবারের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ে বড় ধরনের জোগান দেয়। স্থানীয় বাজার থেকে গরু ক্রয় করে শুরু করা এই যাত্রা আজ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে তার পরিকল্পনা রয়েছে খামারের আয়তন এবং পশুর সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে এটিকে একটি অত্যাধুনিক বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তরিত করা।
সবশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার পক্ষ থেকে উক্ত খামারিকে তথ্য দপ্তর কর্তৃক মুদ্রণ সামগ্রী সংশ্লিয়ে বিষয়ের বিনামূল্যে প্রদান করা হয়
