৫
(ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে জানা প্রয়োজন)
মাছের রক্তে প্লাজমা থাকে। চিংড়ির রক্তে প্লাজমার পরিবর্তে হেমোলিম্ফ (hemolymph) থাকে।
মাছের রক্তে প্লাজমার ভেতর হিমোগ্লোবিন থাকে। চিংড়িতে হেমোলিম্ফের ভেতরে হিমোগ্লোবিনের পরিবর্তে হেমোসায়ানিন থাকে।
হেমোসায়ানিন (hemocyanin) হিমোগ্লোবিনের ন্যায় কণিকা আকারে নয় তরল অবস্থায় থাকে।
হেমোসায়ানিন চিংড়ির সমস্ত শরীরে হেমোলিম্ফের ভেতরে ছড়িয়ে থাকে।
মাছের হিমোগ্লোবিন, আয়রন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। আয়রন সাদা কিন্তু অক্সিজেনের সাথে মিশে ফেরিক হলে তা লাল হয়।
কিন্তু চিংড়ির হেমোসায়ানিন, দুইটি কপার ও এক অণু অক্সিজেন দিয়ে তৈরি যৌগ।
কপার, কিউপেরাস অবস্থায় সাদা কিন্তু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে কিউপিরিক হলে কপার নীল হয়।
তাই কপার ও অক্সিজেন মিলে তৈরি যৌগ হেমোসায়ানিন যা নীল । হেমোসায়ানিন চিংড়ির শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
চিংড়ির হেমোসায়ানিনের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা মাছের হিমোগ্লোবিনের তুলনায় কম।
হেমোসায়ানিনের এই গঠনগত কারণেই চিংড়ি অপেক্ষাকৃত কম অক্সিজেন থাকে জলাশয়ের এমন এলাকায় অর্থাৎ জলাশয়ের তলদেশে কম অক্সিজেনযুক্ত ও ঠান্ডা পানিতে বসবাসে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।
এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ির মধ্যে Litopeneaus vannamei এর শরীরে অবস্থিত মোট কপার পরিমাণের ৪০% কপার হেমোসায়ানিনে থাকে।
আর এজন্যই ভ্যানামি চিংড়ি অধিক অক্সিজেন স্বল্পতা সহনশীল এবং তুলনামূলক অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়।
লেখক ঃ আব্দুস ছালাম প্রামানিক। উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।