৩৯
আর্থিকভাবে আত্মনির্ভর হওয়াটাই সব সময়ই আপনাকে একটা ভিন্ন আনন্দ দেবে। সেই আপনি যে চাকুরিই করুন না কেনো, একটা মুদির ব্যবসা পরিচালনা করেন, কাপড়ের দোকান পরিচালনা করেন, হাঁস মুরগী খামার পরিচালনা করেন বা একটি গরুর খামারই করেন না কেনো।
২০১৪ সালে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এক আত্মীয়ের কাছে থেকে একটি শংকর জাতের গরু কিনেন কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার কলমিয়া গ্রামের মোরশেদা আক্তার। ফেলে দেওয়া ভাতের মাড়, খড়, চালের কুঁড়া দিয়ে গরুর খাদ্যের যোগান দিতে পারায় অতিরিক্ত খরচ করতে হয়নি তাকে। গরুটি বছরে এক (০১) টি করে বাছুর জন্ম দেয় এভাবে তিন (০৩) টি বাছুর জন্ম দেয়ার পর, এর মধ্যে দুই (০২) টি ছিলো গাভী । একইভাবে খাদ্যের জন্য অতিরিক্ত খরচ না করেই বাড়িতে পারিবারিকভাবে গরু পালন করতে থাকেন।
গত দশ (১০) বছর পর তার গরু খামারে বারো (১২) টি গরু রয়েছে। তাছড়া প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য ষাঁড় বাছুর প্রস্তুত করেন এবং প্রতি বছর দুই (০২) টি করে কোরবানির ঈদে মোরশেদা গরু বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি খাবারের জন্য ভুট্রা ও নেপিয়ার ঘাসের চাষ করছেন। গাভী থেকে প্রাপ্ত দুধ তিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে থাকেন। লাভজনক হওয়ায় তিনি খামারে দিকে মনোযোগ বাড়াতে থাকেন।
গরু অসুস্থ হলে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। মোরশোদ আক্তার বলেন, তিনি তার খামারটি আরও বড় করতে চান এবং তিনি প্রাণিসম্পদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে চান। তিনি নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন বেকার না থেকে চাকুরির পেছনে না ছুটে পারিবারিকভাবে অল্প পুঁজি দিয়ে খামার গড়ে তোলা যায়।
পরিশেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লার পক্ষ থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, প্রধান কার্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত গাভী পালন, সবুজ ঘাস সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের ঘাসচাষ, হাইব্রীড ভুট্রা চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ক লিফলেট ও ফোল্ডার বিনামূলে প্রদান করা হয় এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।